সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী লাভলি মৈত্র এবারে টিকিট পাবেন না বলে যে সমস্ত জল্পনা চলছিল তাতে জল ঢেলে দিলেন মমতা।
মমতার বাসভবন থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় জানিয়ে দিলেন সোনারপুর দক্ষিণ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন গতবারের বিজয়ী বিধায়ক অরুন্ধুতী মৈত্র। অভিষেকের পাশে বসা মমতা সংশোধন করে বলে দেন লাভলি।
ধর্মতলায় ও মমতার ধরনা দেওয়ার সময় তাঁর সেই মঞ্চে সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ককে এবারের টিকিট দেবেন না বলে মমতার যে ঘনিষ্ঠ সূত্রের কয়েকজন নেতা নেত্রী দাবি করেছিলেন তার যে কোনো ভিত্তি ছিল না তা আজ বুঝিয়ে দিলেন মমতা।
বাংলার মানুষদের চোখ ছিল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায়। কারণ বিজেপি ও সিপিএম প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই, ঘোষণা এল রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে। আর বারবরের মতো এবারেও, নতুন নতুন তারকা প্রার্থী দাঁড়াবেন বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সে আশায় খানিক পড়ল জল। অন্তত প্রার্থী তালিকায় সেরকম নতুন মুখ এলেন না। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় থেকে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ইমন চক্রবর্তীরা এবার টিএমসি-র টিকিটে ভোটে দাঁড়াবেন শোনা গেলেও, তা হল না কার্যত।

খবর ছিল টালিগঞ্জ থেকে ভোটে দাঁড়াতে পারেন টলিউড অভিনেতা, পরিচলক, প্রযোক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তবে প্রার্থী ঘোষণার সময় নাম ঘোষণা হল অরূপ বিশ্বাসের। ব্যারাকপুরে প্রার্থী তালিকায় হল না কোনো রদবদল। থাকলেন রাজ চক্রবর্তী। রাজের বিরুদ্ধে অবশ্য সেভাবে দলের অন্দরে কোনো অভিযোগের খবর ছিল না। ফলে রাজ এবারেও ভোটে লড়বেন ব্যারাকপুর থেকেই।
একইভাবে সোনারপুর দক্ষিণ থেকেই টিকিট পেলেন অরুন্ধতী মৈত্র অর্থাৎ অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র। যদিও শোনা গিয়েছিল, এবার টিকিট নাও পেতে পারে লাভলি। কিন্তু নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে, লাভলিকেই দেওয়া হল সোনারপুর দক্ষিণের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক মহলে বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল যে, এবার সোনারপুর দক্ষিণে প্রার্থী বদল হতে পারে। লাভলী মৈত্রের প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধিতার দাবিও সামনে এসেছিল। এই অবস্থায় ঘরে-বাইরে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে কোমর বেঁধে মাঠে নামেন বিধায়ক।
রবিবার এই বর্ণাঢ্য বাইক মিছিলটি শুরু হয় লাঙলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুর এলাকা থেকে। কয়েক হাজার দলীয় কর্মী-সমর্থক সুসজ্জিত বাইক নিয়ে মিছিলে শামিল হন। মিছিলটি একে একে গোবিন্দপুর থেকে হরিনাভী,

রাজপুর ও সোনারপুর মোড়, ঘাসিয়াড়া ও তেমাথা হয়ে মকরামপুর পর্যন্ত পরিক্রমা করে। পুরো এলাকাটি তৃণমূলের পতাকায় ছেয়ে যায় এবং কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত স্লোগান লক্ষ্য করা যায়।

সেদিন দলের অন্দরে বিরোধিতা বা টিকিট পাওয়া নিয়ে জল্পনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসী মেজাজে দেখা যায় লাভলীকে। তিনি বলেন, “আমরা আসন্ন নির্বাচনের জন্য ১০০ শতাংশ প্রস্তুত। দল যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই টিকিট দেবে এবং আমাদের লক্ষ্য হলো ঘাসফুল শিবিরের জয় নিশ্চিত করা। মূলত সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করতেই আজকের এই কর্মসূচি।”