সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানোর কলঙ্ক মাথা থেকে মুছবে বিজেপি।’ সিঙ্গুরে গিয়েই এই মন্তব্য করলেন প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আগামী ১৮ জানুয়ারি হুগলির সিঙ্গুরে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগেই সভাস্থল ঘুরে দেখে গেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এছাড়াও বিজেপি সরকার গড়লে অন্য শিল্পপতিদেরও সিঙ্গুরে নিয়ে এসে বিনিয়োগ করার আবেদন করা হবে।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর মাস দুয়েক বাকি। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহেই নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। তার আগেই শাসক-বিরোধী সব পক্ষই প্রচারে গতি বাড়িয়েছে। আগামী রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাকে কেন্দ্র করে বিজেপির তরফে জোর প্রস্তুতি চলছে। বুধবার সিঙ্গুরে যান সুকান্ত মজুমদার। এদিন তিনি বাড়ি-বাড়ি ঘুরে নরেন্দ্র মোদীর সভায় আসার আমন্ত্রণপত্র বিলি করেন। পাশাপাশি স্থানীয় দোকানদার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর সিঙ্গুরে শিল্প আসবে কি না সেই প্রশ্নে সাংবাদিকদের বলেন, সিঙ্গুরে টাটা আসবেই। সুকান্ত বলেন, ‘ভারতের বিভিন্ন জায়গায় শিল্প হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে যাচ্ছে। আমরা পিছিয়ে পড়ছি। ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে যখন সরকার হবে এই রাজ্যে, তখন সিঙ্গুরের এই মাটিতেই টাটা ফিরবে, শিল্প ফিরবে। আমরা সেই চেষ্টা করব। আমরা ১০০ শতাংশ বিশ্বাসী যে আমরা তাতে সফল হব।’
তবে সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে এই কথার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। সুকান্তর এই বক্তব্যের কড়া জবাব আসে তৃণমূলের তরফে। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সোজাসাপ্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘টাটার শিল্প তো সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাটে গিয়েছিল। সেখানে কেন হল না? তার জবাব দিন সুকান্ত মজুমদার।’
তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে শিল্প হচ্ছে না বলে বিজেপি নেতারা যাঁরা বাংলায় লগ্নি করছেন, তাঁদের অপমান করছেন। হুঁশিয়ারির সুরে চন্দ্রিমা বলেন, ‘এর জবাব বাংলার মানুষই দেবে।’
২০০৬ সালের সিঙ্গুর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলার ক্ষমতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসার বিষয় নিয়ে সুকান্ত সরাসরি ক্ষমতায় আসার প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, ‘তখন আন্দোলন হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আসার আন্দোলন, অন্য কিছুর জন্য় নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসে গিয়েছেন, স্কুলের বইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চাকরি চোর পার্থরও নাম ছিল। তাঁর নাম সরিয়েছে কি না আমার জানা নেই। নিজেদের ব্যবসা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষের কিছু হয়নি। সিঙ্গুরের মানুষ কাশফুলের পাশবালিশ বানাচ্ছে।’

এরপরেই সুকান্ত বলেন, ‘সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানো কলঙ্ক। আমরা এটাকে কলঙ্কই মনে করি। সেই সময় রতন টাটার সেই কথা মনে আছে, তিনি বলেছিলেন আমি ‘খারাপ এম’ ছেড়ে ‘ভাল এম’ বেছে নেব। খারাপ এম মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ভাল এম মানে তৎকালীন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই কলঙ্ক সিঙ্গুরের মাটি থেকে ঘোচানোর কাজ বিজেপি করবে। এই পাপের কলঙ্ক আমরা আমাদের মাথা থেকে তাড়াব। টাটা-সহ অন্য শিল্পপতিদের এখানে নিয়ে এসে বলব তাঁরা যেন এখানে বিনিয়োগ করেন, শিল্প গড়েন, যাতে এখানকার বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করেন। আমরা উত্তরপ্রদেশ-সহ অন্য রাজ্যে করে দেখিয়েছি। এখানেও সেটা করব।’
পাশাপাশি চন্দ্রিমা বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘সিঙ্গুরে অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়েছিলেন। তাপসী মালিক যখন জ্বলছিলেন, তখন সুকান্ত মজুমদারদের দেখা যায়নি। আন্দোলন যে ন্যায্য ছিল এবং জমি অধিগ্রহণ অবৈধ ছিল, তা খোদ সুপ্রিম কোর্টই স্বীকৃতি দিয়েছে। এমন একজন প্রধানমন্ত্রী, যিনি শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি আর ভাষণ দেন। কাজের কাজ কিছুই করেন না। উল্টে বাংলা থেকে টাকা নিয়ে গিয়ে বাংলাকেই বঞ্চনা করেন।