চলতি বছরে রাজ্য সরকার দুর্গাপুজোর জন্য পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান বাড়িয়ে একলক্ষ দশ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক ও আইনি লড়াই।
কলকাতা হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন সমাজকর্মী সৌরভ দত্ত। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের করের টাকা কেন ব্যবহার হবে ভোটমুখী রাজনীতির জন্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত।
২০১৮ সাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দিয়ে আসছে রাজ্য সরকার। প্রথম বছর অনুদানের পরিমাণ ছিল দশ হাজার টাকা। পরে তা প্রতি বছরই ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। ২০১৯ সালে এই অনুদান এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় পঁচিশ হাজার টাকা। তারপর থেকে প্রতি বছরই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় অনুদানের অঙ্ক বেড়ে চলেছে।
গত বছর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় অনুদান হবে এক লক্ষ টাকা। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে গিয়ে এ বছর তা আরও বাড়িয়ে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা করেছে রাজ্য সরকার। বিরোধীদের অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অনুদান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সৌরভ দত্ত তাঁর আবেদনে বলেন, রাজ্য সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকা ক্লাবগুলিকে দিয়ে থাকে। এই টাকা আদতে সাধারণ মানুষের পরিশ্রমের ট্যাক্সের টাকা। এই অর্থ সরাসরি জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় হওয়ার কথা। অথচ তা পুজো ক্লাবের হাতে তুলে দিয়ে সরকার রাজনৈতিক লাভের চেষ্টা করছে। এটি সংবিধানসম্মত নয় বলেও দাবি করা হয়েছে আবেদনে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও এই অনুদান নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। ২০২২ সালে হাইকোর্ট কিছু শর্ত আরোপ করেছিল। কিন্তু অনুদান বন্ধের কোনও নির্দেশ দেয়নি। প্রতিবারই মামলার শুনানি চলাকালীন পুজো এসে পড়ে এবং বিষয়টি কার্যত থিতিয়ে যায়।
আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছেন, এই বছর অনুদানের অঙ্ক অতীতের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় আদালতের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জনস্বার্থ মামলায় সরকার কী ভাবে আদালতের কাছে এই সিদ্ধান্তের যুক্তি ব্যাখ্যা করে, সেদিকেই নজর সকলের।
সরকারি তরফে এখনও এই মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, পুজো পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় উৎসব। এই পুজো ঘিরেই লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা ও রুজি-রোজগার জড়িয়ে রয়েছে। ফলে সরকার দায়িত্ব নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই বিতর্কে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে আসন্ন নির্বাচন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে জনমানসে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য।