শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘আমাদের গণতন্ত্রকে বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে হবে। আমাদের ইতিহাস-ভূগোল সব যেন সুরক্ষিত থাকে। মিডিয়া যেন আগে থেকেই মিডিয়া ট্রায়ালে না যায়। সব এজেন্সির সচ্ছতা ও আইনের শাসন বজায় থাকুক। আমি আমার জন্য বলছি না। আমি বলছি গণতন্ত্র-বিচার ব্যবস্থার জন্য। আমি এবং আমরা আপনার কাস্টডিতে আছি। আপনি রক্ষা করুন।’ এভাবেই শনিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং দেশের আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘাওয়ালের সামনে দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা পক্ষে সওয়াল করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বলেন, শুধু এই আদালত নয়, রাজ্য সরকার বিচারব্যবস্থার উন্নয়নে আরও ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যদিও ভারত সরকার এর জন্য তহবিল বন্ধ করে দিয়েছিল। বাংলায় ৮৮টি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫২টি নারী সংক্রান্ত, ৭টি পকসো, ৪টি শ্রম এবং ১৯টি মানবাধিকার আদালত রয়েছে। রাজাহাট নিউ টাউনে নতুন বিচার বিভাগীয় পরিকাঠামোর জন্য ১৪ একর জমি দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের জন্যও একটি নতুন ভবন তৈরি হয়েছে এবং রাজারহাট নিউ টাউনে একটি আইন আকাদেমিও গড়ে তোলা হচ্ছে। এ ছাড়া, ছয়টি নতুন জেলা জজ আদালত এবং আটটি সাব-ডিভিশনাল জজ আদালতও স্থাপন করা হয়েছে।
জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন অনুষ্ঠান থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি আর হাইকোর্টের বিচারপতিরা জানলে খুশি হবেন জলপাইগুড়ির জন্য ঐতিহাসিক দিন। আমরা আজ যা করলাম, মানুষ মনে রাখবেন। এই সার্কিট বেঞ্চের ভবন কলকাতা হাইকোর্টের থেকেও ভাল। যারা এই ভবন বানিয়েছেন, আমি তাঁদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ৪০ একর জমিতে ৫০০ কোটি টাকা খরচ করেছি এই ভবন বানাতে। ৮০ রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স আছে বিচারপতিদের জন্য। প্রধান বিচারপতির জন্য বাংলো রয়েছে। দীপঙ্করদা আমায় মাঝে মধ্যে বলেন কোর্টের জন্যও কিছু টাকা খরচা করুন।১২০০ কোটি টাকা দিয়েছি। ফাস্ট ট্রাক কোর্ট করেছি। প্লিজ কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিছু মনে করবেন না…কেন্দ্র সরকার বন্ধ করে দিয়েছেন ফান্ড কিন্তু আমরা ৮৮ ফাস্ট ট্রাক কোর্ট, ৭ পকসো কোর্ট, ১৯ হিউম্যান রাইট কোর্ট বানিয়েছি। রাজারহাটে জমি দিয়েছি কলকাতা হাইকোর্টকে। আমরা বিচারের জন্য অনেক কিছু করতে চাই।’

দেশের বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে মমতার বক্তব্য, ‘এখনকার দিনে তিনটি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ। এক হল সংবিধান, দুই হল দেশের মানুষ, তিন হল বিচার ব্যবস্থা চার হল মিডিয়া। যাঁরা সবে মাত্র আইনের পেশায় এসেছেন, তাঁরা সব সুযোগ সুবিধা পান না। আমরা দেখব তাঁরা যেন সব সুবিধা পান। প্রধান বিচারপতিকেও বলব দেখতে।’