শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘তৃণমূলের নীচুতলা ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। ভবানীপুরে এতক্ষণ আছি, এতেই উনি বিচলিত। ঘন ঘন পুলিশের কাছে খোঁজ নেবেন। আরও অনেকক্ষণ থাকব। সরস্বতী পুজোয় অংশ নেব। ৩৬টা আমন্ত্রণ পেয়েছি।’ এভাবেই শুক্রবার সরস্বতী পুজোর দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় বলে পরিচিত ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে মন থেকে তীব্র কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম হয়ে উঠেছে রাজনীতির ভরকেন্দ্র। তারই মধ্যেই ভবানীপুরে গিয়ে এদিন কার্যত চ্যালেঞ্জ ছু়ড়ে দিলেন শুভেন্দু। মমতার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বোঝালেন বিজেপির সংগঠন কার্যত মজবুত হচ্ছে। এদিন সকাল থেকে ভবানীপুরের একাধিক সরস্বতী পুজোর মণ্ডপে দেখা গিয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। একইসঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছে এলগিন রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাসভবনেও। সেখানে সংগ্রহশালা ঘুরে দেখেন শুভেন্দু। আজ সরস্বতী পুজোয় অংশ নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, এই ভোটে যদি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একটা রাষ্ট্রবাদী সরকার না তৈরি করে, তাহলে রাজ্যটা গ্রেটার বাংলাদেশে পরিণত হবে। তাই তিনি পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার আবেদন করলেন।
তাঁর মতে, দেশ শক্তিশালী না হলে চলবে না। পেহেলগাঁও দেখার পরও যদি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বিজেপির পক্ষে না ভোট দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ গ্রেটার বাংলাদেশে পরিণত হতে পারে। এ দিন নিজের বক্তব্যে এসআইআর প্রসঙ্গও তুলেছেন শুভেন্দু। তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন যে, তৃণমূল কালকে একটা বিএলও-কে মেরেছে। এছাড়া তাঁর আরও দাবি, কমিশনের সিইও চেষ্টা করছেন। চেষ্টা করছে ইলেকশন কমিশন। তাই সেই দিকে নজর রাখতে হবে।

তবে তৃণমূল শুভেন্দুর এই বার্তা কোনওভাবেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে রাজি নয়। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘১০ ঘণ্টা কেন, ১০ দিন বা ১০ মাস থাকুন, লাভ কিছু হবে না। ক্ষমতা থাকলে লড়ে দেখান ভবানীপুর থেকে।’ এদিন সকাল থেকে ভবানীপুর এলাকার একাধিক পুজো মণ্ডপে দেখা গিয়েছে শুভেন্দুকে। সেই প্রসঙ্গ তুলে দিন জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘ওরাই বলে, বাংলায় সরস্বতী পূজা হয় না, আর শুধুমাত্র ভবানীপুরেই ৩৬টা আমন্ত্রণ পেলেন।’