সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত হয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দায়ের করা মামলার শুনানি আপাতত পিছিয়ে গেল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও, ইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত, সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় রাজ্য সরকার। সেখানে ইডির দায়ের করা মামলা খারিজের আবেদন জানানো হয়। রাজ্যের যুক্তি, সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারার অধীনে এই মামলা দায়ের করার কোনও মৌলিক অধিকার ইডির নেই। পাশাপাশি, যেভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তা আইনসঙ্গত নয় বলেও দাবি করা হয়।
রাজ্যের আরও অভিযোগ, আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস না দিয়েই তল্লাশি চালানো হয়েছে, যা সাংবিধানিক বিধির পরিপন্থী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে জমা দেওয়া হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দপ্তরে ইডির অভিযান সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় প্রদত্ত জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের লঙ্ঘন। এর আগে ইডি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিল।
মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই ইডির তরফে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে আবেদন জানান, রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি, ইডির তরফেও পাল্টা হলফনামা দাখিল করার ইচ্ছার কথা আদালতকে জানানো হয়। সেই কারণেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায় ইডি। বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চ রাজ্যের মতামত জানতে চাইলে রাজ্য সরকার সম্মতি দেওয়ায় মামলার শুনানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ৮ জানুয়ারি বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে কলকাতায় জোড়া অভিযান চালায় ইডি। একটি দল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দপ্তরে যায়, অন্য দলটি যায় লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। ইডি-র অভিযোগ, ইডি তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতীকের বাড়ি ও পরে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে নথিপত্র, ফাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে যান। তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে সেদিনই ইডি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

যদিও ৯ জানুয়ারি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ ওই মামলার শুনানি আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতুবি রাখেন। এরপরই ইডি সুপ্রিম কোর্টে যায়। আইপ্যাক কাণ্ডে ইডির বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশ তিনটি এফআইআর দায়ের করেছিল। তবে আগের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ওই এফআইআরগুলির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়।
পাশাপাশি, মামলার সব পক্ষকে নোটিস জারি করে দু’সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে, যেখানে ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল, সেই এলাকা ও তার আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়। আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই সোমবার হলফনামা জমা দেয় রাজ্য সরকার।