শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘বাচ্চা ছেলেও বুঝবে কোথায় মিথ্যে। সেদিনের ভিডিও ফুটেজেই প্রমাণ আছে যে তিনি ফাইল, মোবাইল ও ল্যাপটপ একপ্রকার ‘চুরি’ করেছেন।’ আইপ্যাক দপ্তরে ইডির তল্লাশি এবং সেখান থেকে নথি সরানো সংক্রান্ত মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিরোধী দলনেতার দাবি, আইপ্যাক কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী নিজের জালেই নিজে জড়িয়ে গিয়েছেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক দফতরে অভিযানের দিন মুখ্যমন্ত্রী যুদ্ধজয়ের ভঙ্গিতে বলেছিলেন, ‘আমি সব নিয়ে নিয়েছি, নিয়ে যেতে দিইনি।’ কিন্তু এখন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি দাবি করছেন যে, ইডি অফিসারের অনুমতি নিয়ে নথি নিয়েছেন।
এদিন শুভেন্দুর সরাসরি অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ধারাবাহিক ভাবে মিথ্যে কথা বলছেন এবং এবার তিনি নিজেই ফেঁসে গিয়েছেন। শুভেন্দুর দাবি, হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে ইডির অফিসারের সঙ্গে কথা বলে তিনি কিছু নথি নিয়েছিলেন। কিন্তু ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক দফতরে অভিযানের দিন বাইরে বেরিয়ে যুদ্ধজয়ের ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি সব নিয়ে নিয়েছি, নিয়ে যেতে দিইনি।’ কোথাও তিনি অনুমতি নিয়ে নথি নেওয়ার কথা বলেননি। শুভেন্দুর ব্যাখ্যা, সেটাই ছিল ‘সেলফ ডিক্লেয়ারেশন’। এখন হলফনামার বক্তব্যের সঙ্গে সেদিনের বক্তব্য মিলছে না। এখানেই থামেননি বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, জেলে যাওয়ার আতঙ্কে মুখ্যমন্ত্রী চাপে পড়ে মিথ্যে কথা বলেছেন। হলফনামা ও সেদিনের ভিডিও ফুটেজ পাশাপাশি রাখলে, তাঁর ভাষায়, ‘বাচ্চা ছেলেও বুঝবে কোথায় মিথ্যে।’
আরও এক ধাপ এগিয়ে শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ—৮ জানুয়ারির ভিডিও ফুটেজেই নাকি প্রমাণ রয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী ফাইল, মোবাইল ফোন এমনকি ল্যাপটপও ‘চুরি করেছেন’ বলে স্বীকার করেছেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘উনি সেলফ ডিক্লেয়ার চুরি করেছেন। জনগণের উপস্থিতিতে উনি নিজেই বলেছেন যে (চুরি করেছেন)। মুখ্যমন্ত্রী হলফনামায় যা বলেছেন, ভয়ে, চাপে, বাঁচার জন্য, আতঙ্কিত, দিশাগ্রস্ত, জেলে যাওয়ার আতঙ্কে থাকা এই মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যে হলফনামা দিয়েছেন। ওঁর কথার সঙ্গে হলফনামার কোনও মিল নেই। দুটো হলফনামার লেখা আর ওইদিন ওঁর ভিডিয়ো, বিবৃতি – সেগুলিকে পাশাপাশি রাখলে একটা বাচ্চা ছেলে বলে দেবে যে আওয়ার চিফ মিনিস্টার ইজ এস্টাব্লিশড লায়ার।’ মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফেঁসে গিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজীব কুমার, মনোজ বর্মারা ফেঁসে গিয়েছেন। তাই তাঁরা এটাকে ঝুলিয়ে রাখতে চাইছেন।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী যে সারাক্ষণ মিথ্যে কথা বলে, হলফনামার অন্য একটা কথা বলা হয়েছে। আমার মনে হয়, এতে নিজেই ফেঁসেছেন।’
এসআইআর ইস্যুতেও মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন শুভেন্দু। কমিশনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির উত্তর দিতে বাধ্য নয়। কটাক্ষের সুরে তাঁর মন্তব্য, তৃণমূলের প্যাডে চিঠি লিখলে তবেই কমিশন জবাব দেবে। শুভেন্দুর দাবি, আসলে তৃণমূল ভয় পেয়েছে বলেই এসআইআর প্রক্রিয়া ঘোলাটে করতে মিথ্যের আশ্রয় নিচ্ছে।