ব্রেকিং
  • Home /
  • আন্তর্জাতিক /
  • Muhammad Yunus farewell speech : “আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি” জাতির উদ্দেশে শেষবারের মতো বার্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

Muhammad Yunus farewell speech : “আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি” জাতির উদ্দেশে শেষবারের মতো বার্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

রফিকুল ইসলাম। কলকাতা সারাদিন। ঢাকা।   দীর্ঘ দেড় যুগ পর একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন—এই শব্দগুলোর মধ্যেই যেন ধরা পড়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া শেষ ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর কাছ....

Muhammad Yunus farewell speech : “আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি” জাতির উদ্দেশে শেষবারের মতো বার্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

  • Home /
  • আন্তর্জাতিক /
  • Muhammad Yunus farewell speech : “আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি” জাতির উদ্দেশে শেষবারের মতো বার্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

রফিকুল ইসলাম। কলকাতা সারাদিন। ঢাকা।   দীর্ঘ দেড় যুগ পর একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন—এই....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

রফিকুল ইসলাম। কলকাতা সারাদিন। ঢাকা।

 

দীর্ঘ দেড় যুগ পর একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন—এই শব্দগুলোর মধ্যেই যেন ধরা পড়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া শেষ ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর কাছ থেকে বিদায় চেয়ে বললেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, বরং “নতুন বাংলাদেশের জন্ম”।

সোমবার রাতের ভাষণে আবেগ, আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা—সবকিছুরই মিশেল ছিল। ড. ইউনূস জানান, মঙ্গলবারের মধ্যেই দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিদায় নেবে অন্তর্বর্তী সরকার। একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার প্রাক্কালে তিনি বলেন, “বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন শেষে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে উপস্থিত হয়েছি।”

নির্বাচনকে ‘উৎকৃষ্ট উদাহরণ’ বললেন প্রধান উপদেষ্টা

ড. ইউনূসের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচন। তাঁর ভাষায়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত—এই নির্বাচন তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এমন একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের সূচনা। এটি নতুন অভিযাত্রার শুরু।” তাঁর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস—এই প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিজয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব নয়।

‘জুলাই সনদ’—অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন

ভাষণের একাধিক অংশে উঠে আসে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রসঙ্গ। ড. ইউনূস একে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর কথায়, “অন্তর্বর্তী সরকারের ছোট-বড় ভালো-মন্দ অনেক কিছু হয়তো জাতি ভুলে যাবে, কিন্তু জুলাই সনদের কথা কোনোদিন ভুলবে না।”

জুলাই সনদের ভিত্তিতে ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তাব গণভোটে বিপুল সমর্থন পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই সনদ বাস্তবায়িত হলে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তির পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এর পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে।

ড. ইউনূসের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল—তিনি জুলাই সনদকে কেবল একটি রাজনৈতিক নথি হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে দেখতে চান।

‘আমরা শূন্য থেকে নয়, মাইনাস থেকে শুরু করেছি’

গত ১৮ মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁদের সরকার শূন্য থেকে নয়, বরং “মাইনাস পয়েন্ট” থেকে কাজ শুরু করেছিল। তাঁর ভাষায়, “ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে তারপর সংস্কারের পথে এগিয়েছি।”

অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনিক শূন্যতা, আস্থার সংকট এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাঙন—সবকিছুর মধ্য দিয়েই পথ চলতে হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। তিনি জানান, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করতেন, তাঁদের অনেকেই পালিয়ে যান বা আত্মগোপনে চলে যান। ফলে প্রশাসনের ভেতরে কাকে বিশ্বাস করা যাবে, সেটাই বড় সংকট হয়ে দাঁড়ায়।

“সরকারের ভেতরে যারা রয়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করব, কাকে করব না—এটি ছিল এক মহাসংকট,” বলেন ড. ইউনূস। মৃতদেহ ও সহিংসতার খবর যত সামনে এসেছে, ততই চিহ্নিত হয়েছে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের চিত্র—এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও বাকস্বাধীনতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান

বিদায়ের মুহূর্তে এসে ড. ইউনূস সবচেয়ে বেশি জোর দেন গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার ওপর। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিচ্ছে, কিন্তু গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা ও অধিকার চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে—তা যেন কখনো থেমে না যায়।”

তাঁর মতে, নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের। স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা এবং জনগণের শক্তিকে জীবিত রাখতে পারলে বাংলাদেশকে কেউ থামাতে পারবে না—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিদায়ের আবেগঘন মুহূর্ত

মঙ্গলবার দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকেও বিদায় নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ভাষণে তাঁর কণ্ঠে ছিল দায়িত্ব শেষ করার তৃপ্তি, আবার কিছুটা আবেগও।

১৮ মাসের পথচলার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা—এটাই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ।” সেই কঠিন পথ অতিক্রম করে এখন একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে পারছেন—এটিকেই তিনি সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

শেষবারের মতো জাতির উদ্দেশে তিনি যে বার্তা দিলেন, তা স্পষ্ট—গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল নির্বাচন নয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, আইনের শাসন এবং নাগরিক সচেতনতা—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ আজ এক নতুন অধ্যায়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হচ্ছে নির্বাচিত সরকারের যাত্রা। ইতিহাসে এই সময়টিকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা সময়ই বলবে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায় ভাষণ নিশ্চিতভাবেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দলিল হয়ে থাকবে।

 

আজকের খবর