সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
২০০৬ এবং ২০০৭ সালের সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের নেমে ধর্মতলায় ছাব্বিশ দিনের অনশন ধরনা দিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারো ধর্মতলার সেই ধরনা স্থলকেই প্রতিবাদের জায়গা হিসেবে বেছে নিলেন মমতা।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, আগামী ৬ তারিখ মেট্রো চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্না ও অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন, যেখানে দলের সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। সেখান থেকেই পরবর্তী রণকৌশল ঘোষণা করা হবে। শনিবার প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কমবেশি ৬৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সেইসঙ্গে বিচারাধীন বা অ্যাজুডিকেশনের আওতায় নাম রয়েছে ৬০ লক্ষ ৬৬৭৫ জনের। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ১ কোটি ২৪ লক্ষের আশপাশে।
এই অঙ্ক নিয়েই আপত্তি তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে এসআইআর-পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপর থেকে ক্রমেই চড়ছে রাজ্য রাজনীতির পারদ। রবিবার দুপুরে তার প্রেক্ষিতেই সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেখানেই তিনি জানান, ‘৬ মার্চ, মেট্রো চ্যানেল, এসপ্ল্যানেড ইস্টে দুপুর ২টো থেকে অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ অভিষেক জানান, ‘দলের সর্বস্তরের প্রতিনিধি থাকবেন। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে মানুষ অংশ নেবেন। পরবর্তী দলীয় কর্মসূচিও ৬ মার্চই মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করে দেবেন।’ তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এসআইআর-এর নামে প্রশাসনিক গাফিলতি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু, পরিযায়ী শ্রমিক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটারেরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে শামিল হচ্ছেন।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্না শান্তিপূর্ণ হবে এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে বাদ পড়া ভোটারদের নাম তালিকায় যোগ করার দাবি জানানো হবে।

পাশাপাশি, প্রয়োজনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ধর্না শুধুমাত্র একটি প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি অবিলম্বে এই ‘ভুল’ সংশোধন করে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় ফেরানো না হয়, তবে এই আন্দোলন কেবল কলকাতা নয়, বুথ স্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তৃণমূলের দাবি, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টাকে তারা কোনোভাবেই সফল হতে দেবে না।