সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ডায়মন্ড হারবারে ঘটল এক অদ্ভুত কাহিনি, যেন হুবহু বলিউড তারকা অক্ষয় কুমারের *“স্পেশাল ২৬”* সিনেমার চিত্রনাট্য। শহরের বুকে ভাড়া বাড়ি নিয়ে খোলা হয়েছিল একটি ভুয়ো গোয়েন্দা সংস্থা। নিজেদের *CBI ও ED অফিসার সেজে* তারা চালাত পুরো অপারেশন। এই অভিনব প্রতারণার জাল ভাঙল পুলিশের তৎপরতায়।
কোর্টপাড়ায় ভুয়ো অফিস, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়
ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোর্টপাড়ায় চালু হয়েছিল এই ভুয়ো অফিস। অভিযোগ, ওই চক্র ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিত। নিজেদের কখনও *ED অফিসার, কখনও **CBI তদন্তকারী, আবার কখনও **নারকোটিক্স বিভাগের অফিসার* পরিচয় দিয়ে তারা প্রতারণা চালাত।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ধৃতরা একাধিক জায়গায় একইভাবে অফিস খুলে বসেছিল এবং অনেকের কাছ থেকে টাকা তুলেছিল।

পুলিশের অভিযানে ধৃত ৫
ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ হানা দিয়ে এই ভুয়ো অফিসের পর্দাফাঁস করে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় ভুয়ো সার্টিফিকেট, নকল আইডি কার্ড এবং ভুয়ো পুলিশি নথি।
গ্রেফতার হয়েছে মোট *৫ জন*—
– ফাল্গুনি চট্টোপাধ্যায় (মূল পান্ডা)
– সুজাউদ্দিন শেখ
– গোপাল বারিক
– সন্দীপ বর্মন
– মোস্তাকিন মোল্লা ও জামাল হালদার
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ফাল্গুনির বাড়ি কলকাতার লেক থানা এলাকায়। তাঁকেই এই প্রতারণা চক্রের মূল হোতা বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিতুন দে জানান—
“একটা ভুয়ো গোয়েন্দা সংস্থা খুলেছিল ওরা। নিজেদের কখনও ED, কখনও CBI, আবার কখনও নারকোটিক্স অফিসার সেজে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করত। ভুয়ো আই কার্ড ও ভুয়ো সার্টিফিকেটও বানাত।”
এখনও পর্যন্ত পুলিশ খতিয়ে দেখছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তারা কত টাকা তুলেছিল এবং কারা তাদের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে জেরা চলছে ধৃতদের।
ডায়মন্ড হারবারের এই ভুয়ো গোয়েন্দা অফিস কাণ্ড শুধু প্রতারণা নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলার বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষকে ভয় দেখিয়ে প্রতারণার এই কৌশল সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। পুলিশের দাবি, আরও তথ্য মিললে বড় জাল ভাঙতে পারে।
এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল, শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও প্রতারণার কৌশল কতটা নাটকীয় হতে পারে।