সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
২০২১ সালে ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল ৮ দফাতে। তার জন্য কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই এবারে বাংলায় ২০২৬ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন সাকুল্যে দুই দফায় করার কথা ঘোষণা করলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রবিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন জানায়, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে আগামী এপ্রিল মাসে বিভিন্ন দিনে ভোটগ্রহণ হবে। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটগণনা হবে ৪ মে, সেদিনই ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত ফলাফল।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলায় এবার দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফায় ভোট হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। দু’দফার ভোট শেষ হবে ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে।
(WB Assembly Election 2026 )
আর এই দু’দফায় ২৬ এর নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের কাছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আরও চার রাজ্যে বিধানসভা ভোট হবে। তবে সেই সব রাজ্যে এক দফাতেই ভোট গ্রহণ শেষ হবে। অসম, কেরল ও পন্ডিচেরিতে এক দফায় ভোট গ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল। তামিলনাড়ুতে এক দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে ২৩ এপ্রিল। একমাত্র বাংলাতেই দু’দফায় ভোট হবে। (Bengal election phase announcement )
কেন মাত্র ২ দফায় ভোট
বাংলায় গত নির্বাচনে আট দফায় ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল। এবার ভোট হবে দু’দফায়। কেন ভোটের দফা কমানো হল? তা নিয়ে ভোট ঘোষণার পরই প্রশ্ন করা হয়েছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। জবাবে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখেছে কমিশন। তাতে মনে করা হয়েছে, দু’দফাতেই ভোট করানো যথেষ্ট। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এবারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই নির্বাচন সম্পন্ন করা আবশ্যক। এই কটি রাজ্যে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদও আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ৭ মে ২০২৬, তামিলনাড়ুতে ১০ মে, অসমে ২০ মে, কেরলে ২৩ মে এবং পুদুচেরিতে ১৫ জুন ২০২৬।
Mamata announces DA : সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর, ২০০৯ সাল থেকে বকেয়া ডিএ মেটানোর ঘোষণা মমতার
বাংলায় কবে কোথায় ভোট গ্রহণ
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য ৩০ মার্চ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। প্রার্থীরা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন এবং ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল। প্রথম দফায় দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদা, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোট হবে।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২ এপ্রিল। এই দফায় ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে এবং ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল। এদিন কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান জেলার মোট ১৪২টি আসনে ভোট হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৪ ঠা মে হবে ভোটগণনা এবং ৬ মে-এর মধ্যে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
নজরে ভোট লুটে যুক্ত পুলিশ
নির্বাচনে কোনও ধরনের হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। সমস্ত ভোটকর্মী এবং পুলিশকর্মীদের নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করতে হবে। গত ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার জায়গায় কোন কোন ওসি এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন অফিসাররা ছিলেন, সেই সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের তালিকাও তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। জ্ঞানেশ কুমার বলেন, আগের বার ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় বাংলায় যে সব পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের ভোটের প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে সমস্ত ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

এখনো বিচারাধীন বহু ভোটার
সুপ্রিম কোর্টের বিগত শুনানিতে জানা গিয়েছিল বাংলার প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে মীমাংসা হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষের। এই মুহূর্তে কত ভোটার বেচারা দিন রয়েছেন তার স্পষ্ট করেনি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বাংলায় ভোটের আগে এই বিচারাধীন ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পাবেন কিনা অথবা তারা ভোট দিতে পারবেন কিনা সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাতীয় নির্বাচন (Gyanesh Kumar Election Commission) কমিশনের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে বিচারকরা কাজ করছেন। বিচারপ্রক্রিয়া শেষে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হলে সেই নামগুলি বর্তমান তালিকার সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে।’