সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
গণপিটুনিতে মৃত্যু। তাও আবার খাস কলকাতা শহরে। মুখ্যমন্ত্রী তথা বাংলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে।
মধ্যরাতে পুলিশ রাস্তায় পেট্রোলিং করছিল। তখনই নজরে পড়ে রাস্তায় ধারে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে রয়েছে মাঝ বয়সী এক ব্যক্তি। তাঁর সারা শরীরে ভারী বস্তু দিয়ে মারার আঘাতের চিহ্ন। পুলিশ দেখেই বুঝতে পারে, এটা দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনা হয়। তড়িঘড়ি ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পর্ণশ্রীতে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম মহেন্দ্র সিং। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আরও এক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত আড়াইটে নাগাদ পুলিশের পেট্রোলিং চলাকালীন পুলিশ দেখতে পায় দীপক সিং নামে এক ব্যক্তি গুরুতর জখম অবস্থায় ধর্মরাজতলার কাছে পড়ে রয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে নকল সোনা বিক্রির অভিযোগে তাঁকে এবং তাঁর দাদা মহেন্দ্র সিংকে ৪-৫ জনের দুষ্কৃতী বেধড়ক মারধর করে। দীপক সিং-এর কাছ থেকে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৯, এমজি সাহা রোডের সামনে থেকে উদ্ধার হয় মহেন্দর সিং (৫৫)-র নিথর দেহ। তবে, ঘটনাস্থলে কোনও রক্তের চিহ্ন মেলেনি।
তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। চিকিৎসকরা মহেন্দরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে দীপককে এসএসকেএমে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মহেন্দরকে অন্য কোথাও পেটানো হয়েছে এবং পরে ওই এলাকায় ফেলে দিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পরে দীপক সিং-এর বয়ান অনুযায়ী, সঞ্জীব কর্মকার, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, চন্দন ঘোষ-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, দীপক এবং মহেন্দর সিং অভিযুক্তদের কাছে জাল সোনার গয়না বিক্রি করেছিলেন এবং বদলে টানা নিয়েছিলেন। যা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দুই ব্যক্তিকে বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের নির্মাণাধীন একটি ভবনে ডেকে পাঠায়। অভিযোগ, সেখানেই শুরু হয় মারধর। বেধড়ক মার খেয়ে মৃত্যু হয় মহেন্দর সিং-এর, গুরুতর জখম হন দীপক। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা যুক্ত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সোনার জিনিসগুলো আদৌ নকল না আসল তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।