সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
শনিবার সকাল থেকেই নিজের ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির কাজে নেমে পড়লেন কলকাতার মেয়র। ভূতুড়ে ভোটারে ভরে গিয়েছে বাংলার ভোটার তালিকা! বারুইপুরের চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় লোকসভা নির্বাচনের পর ৪০০০ -র বেশি ভোটারের নাম নথিভুক্ত হয়েছে তালিকায়। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে শোরগোল বাংলার রাজনীতি।
বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার। প্রত্যেকটি বিধানসভা এলাকায় এই কাজ দলের নেতাকর্মীদের করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ভূতুড়ে ভোটাররা ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়ছে এই অভিযোগ রয়েছে। বিজেপি মদতে বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে ভিন রাজ্যের ভোটারদের নাম ঢোকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। একই এপিক নম্বরে উত্তর প্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানার ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার জন্য সুব্রত বক্সী নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর তারপর থেকেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নেমে পড়েছেন ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির কাজে। শুক্রবার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন তিনি তাঁর ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজে নামবেন। একই এপিক নম্বরে দু’জন ভোটার আছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। ‘ভূতুড়ে’ ভোটার চিহ্নিত করতে তাই প্রত্যেকের দুয়ারে যাচ্ছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। চেতলায় ভোটার তালিকা হাতে নিয়ে স্ক্রুটিনির কাজ করতে দেখা গেল তাঁকে। প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার কার্ড দেখেন মেয়র। কথা বলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাঁরা এমন কিছু জানলে তা জানাতে বলেছেন। একইসঙ্গে ভবানীপুরের রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরও।
ভোটার কার্ড পরীক্ষা করে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “দলনেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। দ্রুত কাজ শুরু করে দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী যখন বলেছেন তখন সেই কাজ বাংলার মানুষকে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোট দিতে আমরা সাহায্য করব। ভুয়ো ভোটে নয়, প্রকৃত ভোটারের ভোটেই জিতব।” এই কাজে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। মৃত কারও নাম আছে নাকি, তা নিয়ে তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। নির্বাচন কমিশনে এই নিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। আরও একবার স্ক্রুটিনি করা হবে বলেও জানান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী।
বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটার তালিকায় বাংলাদেশিদের নাম ঢোকাতেই এই তৎপরপতা শাসকদলের। ভবানীপুরের আটজন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরকে নিয়ে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন ফিরহাদ হাকিমও। সূত্রের খবর, ভবানীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসকে সাংগঠনিকভাবে আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ আবার বীরভূমে বৈঠকে বসেছেন অনুব্রত মণ্ডলরা। বিজেপিকে তোপ দেগে ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, “বাঙালি, অবাঙালি বিভেদ করে বিজেপি। সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করে বিজেপি। এখানে কোনওদিন দাঁত ফোটাতে পারবে না। আইওয়াশের ভাবনা নিয়ে থাকুক বিজেপি। মোদী আজ আছেন। কাল থাকবেন না। বিজেপি একটা একটা করে সব প্রতিষ্ঠান নষ্ট করে দিচ্ছে। এভাবে চললে ভারতের গণতান্ত্রিকতা নষ্ট হয়ে যাবে।”
সুজিত বসুও বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকা নিয়ে গিয়ে স্ক্রুটিনি চালাচ্ছেন এদিন সকাল থেকে। ১১৬ নম্বর বিধাননগর বিধানসভার অন্তর্গত বিধাননগর পুরনিগমের অন্তর্গত ১৪টি ওয়ার্ডের কংগ্রেসের পুরপ্রতিনিধি এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১০টি ওয়ার্ডের পুর প্রতিনিধি ও কর্মীদের নিয়ে এই কর্মিসভা চলে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, ডেপুটি মেয়র অনিতা মণ্ডল। এদিকে অন্যান্য জেলাতেও শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি। বারুইপুর এলাকায় সায়নী ঘোষ ও বিধায়ক লাভলী মৈত্রকে দেখা গিয়েছে। রবিবার থেকেই ভোটার তালিকার সংশোধনে নেমে পড়ার বার্তা দিয়েছেন দুই নেত্রী। দিনহাটার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন উদয়ন গুহ।