প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার আমাদের পেটের পিছনের অংশে অবস্থিত প্যানক্রিয়াজ নামক অঙ্গের ক্যান্সার, যা ইনসুলিন নিঃসরণ করে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই ক্যান্সারটি সাধারণত দেরিতে ধরা পড়ে, যার ফলে রোগীর বাঁচার আশা কম থাকে। বিশ্ব ক্যান্সার গবেষণা তহবিলের মতে, প্রতি বছর প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪.৬০ লাখ মানুষ মারা যায়।
ভারতের পরিস্থিতিও একই, যেখানে প্রতি বছর ১২,৭০০-এর বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর চিকিৎসা বর্তমানে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন এবং সার্জারি দিয়ে করা হয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও সারভাইভাল রেট খুবই কম।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় RNA ভ্যাকসিনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন আশা জাগিয়েছে। RNA ভ্যাকসিন হলো একটি উন্নত মেডিকেল প্রযুক্তি, যা মেসেঞ্জার RNA (mRNA) ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এইভাবে প্রশিক্ষণ দেয় যাতে তা ক্যান্সার সেলগুলোকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে পারে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় Pfizer এবং Moderna ভ্যাকসিন এই প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। এখন এই প্রযুক্তি প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে RNA ভ্যাকসিন প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতে পারে। এটি ক্যান্সার সেলের মধ্যে থাকা মিউটেশন চিহ্নিত করতে সক্ষম এবং T-cells (টি-সেল) সক্রিয় করে, যা ক্যান্সার সেলগুলোকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
এর মাধ্যমে ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা কমানো যেতে পারে। বিশেষত, এই ভ্যাকসিনটি প্রতিটি রোগীর ক্যান্সার সেলকে চিহ্নিত করে কাজ করবে এবং কেমোথেরাপির তুলনায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হতে পারে।
এই ভ্যাকসিনের গবেষণা এখনও চলমান রয়েছে, কিন্তু বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এটি প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের চিকিৎসায় একটি বড় ধরনের আবিষ্কার হতে পারে।