শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“সরকারি টাকায় মন্দির নির্মাণ অসাংবিধানিক। আমন্ত্রণপত্রে ‘জগন্নাথ ধাম’ লেখা হলেও নথিতে এটি কালচারাল সেন্টার। তৃণমূল পুরীর বিকল্প তৈরি করতে পারবে না।” অক্ষয় তৃতীয়ায় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের আগেই এভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রবিবার মমতা সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “বুধবার হিন্দু ছাড়া অন্য কেউ মন্দিরে ঢুকলে, তাদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করব।” শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, উদ্বোধনের খরচ নির্মাণের সমান এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দিঘায় নির্মিত ‘জগন্নাথ ধাম’ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের জন্য পাঠানো আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই হিডকোর ভাইস চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব ড. হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীকে উদ্দেশ্য করে একগুচ্ছ প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সেসব লিখে শুভেন্দু দাবি করেছেন, এই সব গুরুতর প্রশ্নের সদুত্তর না পেলে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা তাঁকে ভাবতে হবে। তাই হিডকো-র ভাইস চেয়ারম্যান দ্বিবেদীর কাছ থেকে তিনি সেসব প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন এক্স হ্যান্ডেলে। শুভেন্দু অধিকারী জানতে চেয়েছেন, টেন্ডার নথি অনুযায়ী দিঘায় ‘জগন্নাথ ধাম সংস্কৃতি কেন্দ্র’ নির্মিত হয়েছে। অথচ আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ অনুষ্ঠানের কথা।
তিনি পরিষ্কার জানতে চেয়েছেন, এখানে কি ‘জগন্নাথ ধাম সংস্কৃতি কেন্দ্র’র উদ্বোধন হচ্ছে, নাকি জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন হচ্ছে? তাঁর মতে, এই বিভ্রান্তি দূর করতে আমন্ত্রণপত্রটি পুনর্মুদ্রণ করা উচিত অথবা স্পষ্ট ব্যাখ্যাসহ লিখিত উত্তর পাঠানো উচিত। দ্বিতীয়ত, তাঁর প্রশ্ন, যেহেতু হিডকো-র পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাই এই প্রতিষ্ঠানটিই কি ভবিষ্যতে জগন্নাথ ধাম সংস্কৃতি কেন্দ্র বা মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও দেখভালের দায়িত্বে থাকবে?
তিনি জানতে চেয়েছেন, বর্তমানে হিডকো-র চেয়ারম্যান কে? হিডকো-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখনও ফিরহাদ হাকিমের নাম চেয়ারম্যান হিসেবে আছে। সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু বলেন, যদি ফিরহাদ হাকিমকে সরানো হয়ে থাকে, তবে কেন হিডকো-র ওয়েবসাইটে এখনও তাঁর নাম রয়েছে? যদি তাঁকে সরানো না হয়ে থাকে, তবে এই প্রকল্পের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী হবে? আমন্ত্রণপত্রে কেন তাঁর নাম নেই, তাও জানতে চেয়েছেন তিনি।
তৃতীয়ত, শুভেন্দুর আরও প্রশ্ন, ভবিষ্যতে এই মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান কোথায় যাবে? যেহেতু এটি সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সংস্কৃতি কেন্দ্র, ওই দানের অঙ্ক কি মন্দিরের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে, নাকি হিডকো-র আয় হিসেবে ধরা হবে?
চতুর্থত, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মন্দির বা সংস্কৃতি কেন্দ্রে যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের নিয়োগ কে করবেন? তিনি জানতে চেয়েছেন, এখানে কি ধর্মীয় ভাবে হিন্দু নয়, এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হবে? যেহেতু পশ্চিমবঙ্গ সরকার বা হিডকো-এর মতো একটি পাবলিক সেক্টর কোম্পানি এই প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাই ধর্মের ভিত্তিতে নিয়োগে কি কোনও বৈষম্য করা হবে?

এর পাশাপাশি, শুভেন্দু জানতে চেয়েছেন, যেহেতু দিঘার জগন্নাথ ধাম পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত হচ্ছে বলে প্রচার করা হয়েছে, তাহলে কি পুরীর নিয়ম অনুযায়ী এখানে হিন্দু ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে?
আমার বিশ্বাস আপনি এই অস্বচ্ছতাগুলির জবাব দেবেন। না হলে ধরে নেব আপনি ও আপনার সরকার কোটি কোটি হিন্দুদের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করছেন।