শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
”দিল্লিতে বাঙালি হেনস্থার যে অভিযোগ মমতা করেছেন তা যে ভুয়ো তা প্রমাণিত। মালদহের এক তৃণমূল নেতার ইন্ধনে ওই ভিডিও করা হয়েছিল। এতেই পরিষ্কার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ভুয়ো, মিথ্যে খবর রটাচ্ছেন। এর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়া উচিত।” এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নয়াদিল্লিতে বাঙালি মা ও শিশুকে হেনস্থা করার অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিন্তু সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন পূর্ব দিল্লির ডিসিপি অভিষেক ধানিয়া। তিনি জানিয়েছেন, হেনস্থার যে ভিডিও ছড়িয়েছিল তা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। শুভেন্দু বলেন, দিল্লিতে থাকা বাঙালিদের উচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এইসব ভুয়ো পোস্টের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা। পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ যেন সেই এফআইআরের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এও জানান, কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে তিনি ফোনে বলেছেন, মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর দিল্লি পুলিশের সাইবার সেলে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এফআইআর দায়ের করতে।
মঙ্গলবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”গুজব এবং মিথ্যে খবর রটাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কারণে তিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পর্যন্ত পেতে পারেন!” শুধু বাঙালি হেনস্থা নিয়েই নয়, সব ক্ষেত্রেই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যাচার করেন তার ‘উদাহরণ’ দেন বিরোধী দলনেতা। মন্তব্য, যিনি বাঙালি হেনস্থা নিয়ে কথা বলছেন তাঁর জন্যই ২৬ হাজার বাঙালির চাকরি গেছে। রাজ্যের বিরোধী শিবিরকে কর্মসূচি করতে হলে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
অন্যদিকে, সোমবারই বিএলও-দের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আর মঙ্গলবারই তাঁকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, ভুয়ো, অবৈধ ও অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ পড়বেই, কেউ আটকাতে পারবে না। মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, কোনও নাম বাদ যেতে দেবেন না। আমি বলছি, নাম বাদ যাবেই।” তাঁর দাবি, ”রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, মৃত ভোটার, একাধিক কেন্দ্রের তালিকায় নাম থাকা ভোটার এবং মুখ্যমন্ত্রী ও আইপ্যাকের যৌথ প্রচেষ্টায় ঢোকানো ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় থাকবে না। সেই নাম বাদ যাবেই।”
ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে আইপ্যাকের দিকেও আঙুল তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, ”প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভুয়ো ভোটার ঢোকানো হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তৃণমূল কোনও নির্বাচনেই প্রকৃত জনমতের ভিত্তিতে জেতেনি।” শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, ”গত দশ বছরে রাজ্যের ৮০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এটা অস্বাভাবিক।” শুধু বিএলও নয়, ইআরও বা ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার নিয়োগ নিয়েও শুভেন্দুর বড় অভিযোগ। বলেছেন, ”দেশজুড়ে নির্দেশ আছে মহকুমাশাসক ছাড়া কেউ ইআরও হতে পারবেন না। অথচ রাজ্যে এই নির্দেশ মানা হচ্ছে না। এই ক্ষেত্রে তাঁর নিশানায় রয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পস্থ। তিনি নিজে নির্দেশিকা ভেঙেছেন বলে দাবি শুভেন্দুর।