শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
যেন কোনও সিনেমার দৃশ্য। ভরা বাজারে হঠাৎ বাইকে করে হানা একদল যুবকের। কারোর হাতে বন্দুক, কারোর হাতে ধারালো অস্ত্র। আশেপাশের সব জিনিস ভাঙচুর শুরু করা থেকে বন্দুক হাতে শাসানি। আতঙ্কে ছুটতে লাগলেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার রাতে এমনই এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য়ের সাক্ষী থাকল খাস কলকাতার কসবার গুলশান কলোনি। প্রথমে হঠাৎ করেই অটো স্ট্যান্ড এলাকায় ছুটে আসে একদল দুষ্কৃতী। মুহূর্তের মধ্যে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, দৌড়ঝাঁপ শুরু হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অল্প সময়ের মধ্যেই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। সন্ধ্যার গুলির ঘটনার পর পুলিশ টহল জোরদার করে। তবু রাত গাঢ় হতেই ফের আরেক দল দুষ্কৃতী কলোনিতে ফিরে আসে। এবার আর গুলি নয়, প্রচণ্ড শব্দে একের পর এক বোমা ছোঁড়ে তারা। কয়েক মিনিটের মধ্যে চারদিক ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘরে ঘরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘরের আলো নিভিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে বসে থাকেন। সিসিটিভি ক্যামেরাতেও ধরা পড়ে রাতের এই বোমাবাজির দৃশ্য।
আর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধীদের তোষণ করার অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘মা-মাটি-মানুষ’ এর সরকার এখন শুধু ‘মাফিয়া-মাস্তান-মার্ডারার’-দের সরকারে পরিণত হয়েছে !!! অপরাধীদের ‘মুক্তাঞ্চল’ বাইপাস সংলগ্ন আনন্দপুর থানা এলাকার গুলশন কলোনি।
গতকাল সন্ধ্যায় আচমকাই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, শুরু হয় প্রকাশ্যে গোলাগুলি। ব্যবসায়ীরা হকচকিয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন চটজলদি, এলাকাবাসীরা আতঙ্কে ঘরের দরজায় ছিঁটকানি লাগান।
কারা এই ভাবনাহীন বন্দুকবাজ? কি করে পায় এত সাহস? স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকার দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রায়ই তৃণমূলেরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা লেগেই থাকে। গতকাল উত্তেজনা চরমে ওঠে। কলকাতার অপরাধ জগতের ‘অন্ধকূপ’ হলো গুলশান কলোনি! এই কলোনিতে প্রচুর বাংলাদেশী মুসলিমরা এসে ঘাঁটি গেড়েছে। প্রায়শই ভিন্রাজ্যের পুলিশ এসে ওই এলাকায় হানা দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে মাসের পর মাস লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশীদের।
কলকাতার একের পর এক অপরাধের ঘটনায় বার বার নাম জড়িয়েছে গুলশান কলোনির। ঘন জনবসতি এবং ঘিঞ্জি এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ এই প্রথম নয়, আগেও একাধিক বার সেই কথা শোনা গিয়েছে পুলিশকর্তাদের মুখেই। কখনও ভরসন্ধ্যায় যুবককে রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করা হচ্ছে, কখনও আবার দুই গোষ্ঠীর বিবাদে প্রকাশ্যেই মুড়ি মুড়কির মতো বোমা-গুলির বৃষ্টি হয়েছে। সব জেনে শুনেও পুলিশ পরিস্থিতি আনতে কেন ব্যার্থ? কারণ খুব স্পষ্ট – শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর সিন্ডিকেটের লড়াই পুলিশ আটকাতে গেলে পুলিশের শীর্ষকর্তাদের চেয়ার টলে যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের গুলশান কলোনির মতো জায়গায় নিরাপদে ঠাঁই দিয়েছে। এদের নাম বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, দলে নিয়ে নিজেদের অপরাধের সাম্রাজ্য বিস্তার করছে, আর সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে।
তাঁর সরকারের অপশাসনের কারণে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অবাধে খুন, গুলি, বোমাবাজি নিরন্তর চলছে, আর এসবের পিছনে রয়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা। পুলিশ সব কিছু জেনেও নিষ্ক্রিয়, তাই নাগরিক সুরক্ষা বিঘ্নিত, অর্থনীতি অস্তাচলে।