কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে রাজ্য পুলিশের আইপিএস স্তরের আধিকারিকদের অশুভ আঁতাতের বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ নন্দীগ্রাম হরিপুর বিজেপি পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, ‘বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা এবং হয়রানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নতুন নিদর্শন তৈরি করছে। আইপ্যাক নন্দীগ্রামের বিজেপি কর্মীদের কাছে গিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে। প্রস্তাবে সাড়া না দিলে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’
শুভেন্দুর দাবি, নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের বিজেপি নেতা দিলীপ পালকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য আইপ্যাক-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি যোগ দিতে অস্বীকার করলে তাঁর ছেলে দীপাঞ্জন পাল, যিনি আমদাবাদ-১ এলাকায় ভিলেজ পুলিশের কাজ করতেন, তাঁর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম ২ এর রেয়াপাড়া পুলিশ স্টেশনের ইন্সপেক্টর ইনচার্জের কাছ থেকে আসা একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা মারফত চাকরি বন্ধ করার কথা জানানো হয় দীপাঞ্জনকে। নন্দীগ্রাম থেকে ন’জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে শুধু ‘হিন্দু হওয়ার কারণে’ অন্যান্য থানায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়কের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে তাঁর নির্বাচনী এলাকার একাধিক বিজেপি নেতাকে দলবদল করানোর চেষ্টা হয়েছে। আইপ্যাকের লোকজন গোপনে বিভিন্ন স্তরের বিজেপি নেতাদের কাছে গিয়ে নানা প্রলোভন দেখাচ্ছেন বলে শুভেন্দু দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘কারও কাছে আইপ্যাক গেলেই আমরা খবর পেয়ে যাচ্ছি।’ তাঁর দাবি, আমদাবাদ-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি আহ্বায়ক দিলীপ পালের কাছে কয়েক মাস আগে আইপ্যাকের প্রস্তাব পৌঁছোয়। তৃণমূলে যোগদান করে কী কী দিলীপ পেতে পারেন, সে সবও বলা হয়। শুভেন্দুর কথায়, ‘দিলীপবাবু আগে বামপন্থী দল করতেন। ২০১৮-১৯ সাল থেকে ওই এলাকায় বিজেপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি আদর্শবান মানুষ। চাওয়া-পাওয়া নিয়ে রাজনীতি কখনও করেননি। তাই আইপ্যাকের প্রস্তাবে তিনি সাড়া দেননি। দলকেও সে বিষয়ে কিছু বলেননি। দিলীপবাবু দল পরিবর্তন না-করায় পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্যকে বলে আইপ্যাক দিলীপবাবুর ছেলেকে কাজ থেকে বসিয়ে দিয়েছে। আমরা ছেড়ে দেব না। ইতিমধ্যেই দীপাঞ্জন কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত মামলা গ্রহণ করেছে। আশা রাখি আগামী সপ্তাহে মামলাটি উঠবে।’
তবে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, ‘অনাবশ্যক বিভিন্ন অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারী প্রতি দিনই করে থাকেন। সে সব অভিযোগের বাস্তবতা নিয়ে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। ভিলেজ পুলিশ পদ থেকে কাউকে সরানোর সঙ্গে তিনি রাজনীতির যোগ খুঁজে বার করছেন। শুধু রাজনৈতিক দল নয়, একটি পরামর্শদাতা সংস্থার নামও টেনে আনছেন। তা হলে বুঝতে হবে, বিজেপি এতটাই ভঙ্গুর যে, সব সময় ভয়ে কাঁপছে।’
অন্যদিকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় যোগ্য এবং অযোগ্যদের বসা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘১০ নম্বর বাড়তি দেওয়ার বুদ্ধি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। আদালতের রায়ে স্পষ্ট লেখা ছিল, যোগ্যদেরই পরীক্ষা নিতে হবে। এখানে এসএসসি-র কোনও ভূমিকা নেই। গোটা বিষয়টি পরিচালনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’