শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘মুখ্যমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন যে আমরা বাইরে থেকে ভোটার আনছি, কিন্তু সেই ভোটাররা পশ্চিমবঙ্গেরই।’ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বহিরাগত ভোটারদের নিয়ে আসছে বলে মমতা যে অভিযোগ করে আসছেন আজ প্রবাসী বাঙ্গালীদের পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এভাবেই কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তাঁর দাবি, গুজরাটের সুরাট, মহারাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মজীবীরা নিজেদের রাজ্যের মাটিতে ভোট দিতে ফিরে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রী বারবার যে অভিযোগ তুলছেন, তার প্রেক্ষিতে শমীকের স্পষ্ট বার্তা—এরা বহিরাগত নন, বরং বাংলারই সন্তান যাঁরা জীবিকার সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন।
নজিরবিহীন ভাবে এবারে বিজেপির উদ্যোগে ভোট দেওয়ার জন্য ৭৩টি স্পেশ্যাল ট্রেনে করে ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছেন, এবার দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা আসছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির নিজস্ব ব্যবস্থায় এবং অনেকের স্বতঃস্ফূর্ত প্রচেষ্টায় এই শ্রমিকরা বাংলায় ফিরছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলা বলার অপরাধে যাঁদের ভিনরাজ্যে নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছিল, তেমন অভিযোগ উঠেছিল, তাঁরাই এখন নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে নিজের রাজ্যে ফিরছেন।’
সোমবার প্রবাসী বাঙালি কার্যকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাঙালি কার্যকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শিল্প, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির বিকাশের বার্তা দেন তিনি। বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন অন্যান্য বারের মতো নয়। এবারের নির্বাচন পরম্পরার নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে শুধু ভারতবাসী নয়, গোটা বিশ্বের মানুষ যাঁদের এই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যোগ রয়েছে, যাঁরা প্রবাসে থাকেন তাঁরাও চাইছেন এবার পরিবর্তন হোক। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাজ্যে শিল্প, কর্মসংস্থান নেই। রাজ্য শিল্প চায়, উন্নয়ন চায়। তাছাড়া এই রাজ্যের ভবিষ্যৎ নেই।’ বড় বিনিয়োগ দরকার বলেও জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি। শমীকের দাবি, ‘দক্ষিণবঙ্গের জন্য অন্য চমক আছে।’

এক প্রবাসী বাঙালির বক্তব্য, ‘বর্তমানে বিজেপিই পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারবে। আগে আমরা যে ভুল করেছি আর সেই ভুল করতে চাই না। আমাদের বিশ্বাস আছে বিজেপির ওপর এবং নরেন্দ্র মোদির ওপর।’