সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ের খুনের বিচার চেয়েছিলেন কালীগঞ্জের সাবিনা ইয়াসমিন। ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ। ২০২৫ সালে কালীগঞ্জে তামান্না খুনের ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতভর তল্লাশি চালানো হয় কালীগঞ্জে। খুনের এক বছর পরে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে কলকাতায় যান তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন সেখ। সেই দিনই তদন্তে নতুন অগ্রগতির কথা সামনে এল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জিয়ারুল শেখকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানার গোপালপুর এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্ত সাবির শেখকে ধরা হয় পলাশিপাড়া থানা এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে। ধৃত দু’জনকে বুধবার কৃষ্ণনগর আদালতে পেশ করে পুলিশ তাদের হেফাজতের আবেদন জানায়। এই নিয়ে তামান্না হত্যাকাণ্ডে মোট ১৩ জনকে ধরা হয়েছে। মামলায় মোট অভিযুক্ত ২৪। মুখ্যমন্ত্রীর এই দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘আমি অনেকদিন ধরেই বলছিলাম, অপরাধীরা পালিয়ে নেই, তাদের আড়াল করা হয়েছিল। তৃণমূল নেতাদের মদত ছিল বলেই এত দিন তারা ধরা পড়েনি। মুখ্যমন্ত্রী যে তৎপরতা দেখিয়েছেন, তাতে আমি আশাবাদী। আশা করি, বাকি অভিযুক্তরাও শীঘ্রই ধরা পড়বে এবং আমার মেয়ে শেষ পর্যন্ত সুবিচার পাবে।’
২০২৫ সালের ২৩ জুন। কালীগঞ্জের উপ-নির্বাচনে তৃণমূলের জয় হয়। বিজয় মিছিল থেকে ছোঁড়া বোমায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তামান্নার দেহ। ২৪ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করে নিহত তামান্নার পরিবার। ১১ জন গ্রেফতার করা হলেও অধরা ছিল ১৩ জন। মঙ্গলবার বিধানসভায় তামান্নার মা, আনিস খানের বাবার সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল আমলে মেলেনি বিচার, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ কাকদ্বীপের দীপঙ্করও। সবাই বিচার পাবে বলে তামান্নার মা, আনিস খানের বাবাকে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সুবিচারের আশ্বাস দিয়ে এডিজি সিআইডির সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেই ভবানীভবনে যান স্বজন হারানো ৩ পরিবার। ২০১৮ সালের ১৩ মে, পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগের দিন কাকদ্বীপের স্ত্রী ঊষারাণী-সহ সিপিএম কর্মী দেবু দাসকে পুড়িয়ে খুন করা হয়। এবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে ২০১৮ সালের দেবপ্রসাদ দাস (দেবু) ও তাঁর স্ত্রী উষারানি দাস হত্যা মামলায় সাফল্য পেল পুলিশ। এফআইআরে নাম থাকা ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে দায়ের হওয়া মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩৬, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় রুজু হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতেরা হলেন ৪৬ বছরের অশোক মণ্ডল, ৪১ বছরের চন্দন গিরি, ৬২ বছরের মেঘনাথ ডাকুয়া, ৬৫ বছরের মাধব কান্দার়, ৬৯ বছরের নিকুঞ্জ নস্কর, ৬৬ বছরের শিবপ্রসাদ মণ্ডল, ৪১ বছরের অমিত মণ্ডল, ৪৫ বছরের গোকুল জানা, ৪৮ বছরের নারায়ণচন্দ্র পতি এবং ৪০ বছরের শেখ মনিরুল। সকলের বাড়ি কাকদ্বীপ থানার বুধাখালি গ্রামে।

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২। সিভিক ভলেন্টিয়ারদের একটি দল নিয়ে বাড়িতে আসে আমতা থানার পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাড়ির ভেতর ঢুকে, দোতলায় পৌঁছে যান। তারপরই উপরতলা থেকে নীচে আছড়ে পড়েন ছাত্র নেতা আনিস খান। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছিল জেলার পুলিশ সুপার সৌম্য রায়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সেই সময় একাধিকবার অভিযোগ করা হয় তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রের স্বামী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে নাকি সঠিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়নি। তাই এবারে তৃণমূলের সরকার পতনের পরে এবং লাভলি মৈত্রের বিধায়ক পদ চলে যাওয়ার পরে তাঁরা আরো একবার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিরপেক্ষ বিচারের আশায় উপস্থিত হয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে দাবি।