শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
প্রয়াগরাজের মহা কুম্ভে কোটি কোটি মানুষের স্নানের ফলে দূষিত হয়ে গিয়েছে জল বলে নাকি রিপোর্ট দিয়েছে ন্যাশনাল গ্ৰিন ট্রাইবুনাল। কিন্তু দেশ জুড়ে এই বিতর্কের মধ্যেই ত্রিবেণী সঙ্গমে মহাকুম্ভে স্নান করে সেই জল পান করলেন বাংলার বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী। মহাকুম্ভের পূণ্যস্নান শুরু হয়েছে গত ১৩ জানুয়ারী। চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত।
ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী,উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথসহ তাবড় বিজেপি নেতৃত্ব প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে মহাকুম্ভের পূণ্যস্নান করেছেন। এরাজ্যের বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদাররাও মহাকুম্ভের পূণ্যস্নান করে এসেছেন।
এরই মাঝে মহাকুম্ভকে “মৃত্যুকুম্ভ” বলে অবিহিত করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বিতর্কের রেশ পৌঁছে গেছে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভাতেও। এই বিতর্কের মাঝেই আজ শুক্রবার মহাকুম্ভে পূন্যস্নান করলেন এরাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পূণ্যস্নানের পর তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘পবিত্র গঙ্গা নদীতে স্নান করেই আত্মা তৃপ্ত হয়ে উঠল’। শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে মমতা ব্যানার্জির ‘মৃত্যুকুম্ভ’ মন্তব্যের জবাব বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল
শুক্রবার ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দিয়ে পুণ্যস্নান সারলেন তিনি। নিজের পুণ্যস্নানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা নিজেই।
১৪৪ বছর পর মহাকুম্ভ হচ্ছে। এটি বিরলতম যোগ বলা হয়। এক্স হ্যান্ডেলে নিজের মহাকুম্ভ যাত্রা এবং পুণ্যস্নানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “নমঃ পার্বতী পতয়ে, হর হর মহাদেব। ১৪৪ বছর পরে মাহেন্দ্রক্ষণে আসা এই পূর্ণ মহাকুম্ভের মাহাত্ম্য সুবিশাল। মহাকুম্ভ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার এক মহামিলন হলো এই মহাকুম্ভ যা জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক চেতনার দ্বারকে উন্মুক্ত করে দেয়। আজ প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে আমার পুণ্যস্নান করার সৌভাগ্য লাভ হল। ১৪৪ বছর পর গ্রহ নক্ষত্রের বিশেষ যোগ-এ অনুষ্ঠিত এই পবিত্র মহাকুম্ভে পুণ্যস্নান আমার কাছে এক অনন্য উপলব্ধি, এক বিশেষ অনুভূতি যা ভাষায় বর্ণনা করা অসম্ভব।

আমি যশস্বী প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জি, উত্তর প্রদেশের যশস্বী মুখ্যমন্ত্রী শ্রী যোগী আদিত্য নাথ জি ও উত্তর প্রদেশের প্রশাসনকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই সুন্দর, সু’ব্যবস্থার জন্য। মানবতা ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন এই পবিত্র মহাকুম্ভের সাক্ষী থাকতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। বাবা ভোলেনাথ ও মা গঙ্গার চরণে আমার প্রণাম। হর হর গঙ্গে, জয় মা গঙ্গে ।”