সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

 

বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাকি মাত্র মাস তিনেক। তার আগেই শুরু হয়ে গেল দলবদলের খেলা। সাত বছর বাদে ফের নিজের পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে গেলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। শনিবার তিনি দিল্লির ২৪ নম্বর আকবর রোডে কংগ্রেস দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুরনো দলে যোগ দিলেন। মৌসমের যোগদান কর্মসূচিতে দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মির, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ তথা সম্পর্কে মৌসমের দাদা ইশা খান চৌধুরী।

 

মৌসম কংগ্রেসে ফিরে আসার পর সাংবাদিক বৈঠকে ইশা বলেন, ‘ওঁর রক্তে কংগ্রেস রয়েছে। অন্য দলে যাওয়ার ফলে আমাদের পরিবারের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়েছিল। আজকে সব বিভাজন ঘুচে গেল।’ এদিন তাঁকে দলে স্বাগত জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ‘পরিবারে ফিরে এলেন। এটা ট্রেলার দেখলেন। আমরা জানালা খুলে রেখেছিলাম। এখন দরজা খুলে দিলাম।’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সংযোজন, ‘আজ যিনি যোগ দিলেন, তিনি আমাদের পরিবারে ছিলেন। তিনি আমাদের পরিবারে ফিরে এলেন। আমি শুধু এটুকুই বলব, আজকের দিনে বাংলায় যে কঠিন লড়াই, বিশেষ করে যখন ধর্মকে হাতিয়ার করে এবং পশ্চিমবঙ্গে বিভাজনের রাজনীতি কায়েম করার চেষ্টা হচ্ছে, যারা রাজ্য সরকারে আছে, যারা কেন্দ্রীয় সরকারে আছে…বিজেপি ওখানে সরকার বানাতে চায় না। ওখানে তারা এমন একটা অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় এবং তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে যা করছে সেটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য কোনও উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে যুব কংগ্রেস করা লড়াকু নেত্রী, বরকত গণিখান চৌধুরীর আদর্শ নীতিতে বিশ্বাস করা একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে তাঁর কংগ্রেসে আসা নিশ্চিতভাবে শক্তিশালী করবে কংগ্রেসকে। এটা আপনারা ট্রেলার দেখলেন। আমরা জানালা খুলে রেখেছিলাম। এখন দরজা খুলে দিলাম।’

 

এদিকে, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইতিমধ্যেই নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন মৌসম। শুধু দল নয়, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আগামী সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের দফতরে সেই চিঠি জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন। মেয়াদ শেষ হতে এখনও কয়েক মাস বাকি থাকলেও আগেভাগেই পদ ছাড়ছেন তিনি। মৌসমের কথায়, ‘আমি বরকত গনিখান চৌধুরী সাহেবের পরিবারের সদস্য। সেই ঐতিহ্য বহন করি। পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমেই কংগ্রেসে ফেরার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তবে দলবদলের পরেও তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়া মন্তব্য করেননি মৌসম। বরং তিনি বলেন, ‘তৃণমূল আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ করেছে, জেলা সভাপতির দায়িত্বও দিয়েছে।’ কংগ্রেস দফতরের সাংবাদিক বৈঠকেও মমতাকে ‘আমাদের নেত্রী’ বলেই সম্বোধন করেন তিনি।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন মৌসম ঠিক সাত বছর পর ফের জানুয়ারিতেই সেই অধ্যায়ের ইতি টানলেন। দিল্লিতে তাঁর যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মির, প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও মালদহ উত্তরের সাংসদ তথা সম্পর্কে মৌসমের দাদা ইশা খান চৌধুরী।

রাজনৈতিক মহলের স্মৃতিতে এখনও টাটকা মৌসমকে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সে সময় তিনি তৃণমূলেই ছিলেন ও মালদহ মুর্শিদাবাদের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে। তিনিই মৌসমকে নবান্নে নিয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়েছিলেন। মালদহই মৌসমের রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটি। ফলে তাঁর দলবদলে সেই জেলায় তৃণমূল কতটা ধাক্কা খেল, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূলের মুখপাত্ররা প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে নারাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *