সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন।
ভারতীয় ফুটবলের জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে খুন। পি কে ও তাঁর স্ত্রী-র অবর্তমানে ওই বাড়িতে থাকতেন তাঁদের মেয়েরা। পি কে-র সল্টলেকের বাড়িতে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হল। দেহটি বাড়ির পরিচারকের বলে জানা গিয়েছে।
ফুটবলার পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে খুন! দুই কেয়ারটেকারের মধ্যে বচসার জেরে তুলকালাম কাণ্ড আর তার জেরেই খুন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মদের আসরে খুন হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের প্রাথমিক খবর। রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে চলে এলোপাথারি কোপ। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।
সল্টলেকের জিডি পার্ক সংলগ্ন পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৭৩ নম্বর বাড়িতে বাড়ি থেকে রক্তাক্ত দেহটি উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বাড়িতে গাড়ির চালক বরুণ ঘোষ এবং পরিচারক গোপীনাথ মুহুরি মদের আসর বসান বলে জানা যাচ্ছে। সেখানে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, যা ক্রমশ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, তর্কাতর্কি চলাকালীন হঠাৎ উঠে রান্নাঘরে চলে যায় বরুণ। ছুরি নিয়ে এসে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে গোপীনাথকে।
গুরুতর জখম অবস্থায় ওই আহত কেয়ারটেকারকে বিধান নগর মহাকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এর পরে খবর যায় বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশের কাছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বরুণ ঘোষকে গ্রেফতার করে। তবে কী কারণে এই ঝামেলা, সেই বিষয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দোলের পরদিন সকালে দুই কেয়ারটেকারের মধ্যে ঝামেলা থেকেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটে যায় সল্টলেকে প্রাক্তন ফুটবলারের বাড়িতে। বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সূত্রের খবর পিকের বাড়িতে সেই সময় দুই মেয়ে পলা আর পিক্সি ছিলেন। জামাই সাগ্নিক বাইরে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে এহেন ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর গতকাল দোলের দিন প্রয়াত ফুটবলারের বাড়ি থেকে হাজার খানেক টাকা চুরি হয়। সেই নিয়ে বিকেলে এই দুজন কেয়ারটেকারের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর পরে রাতে যখন মদের আসর বসে তখন দুজনের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। তখন বরুণ নামক যুবক ছুরি নিয়ে হামলা করে অপর কেয়ারটেকারের উপর। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর মাঝে মধ্যেই মদ্যপান করে ঝামেলা করত ওই দু’জনে।
সূত্রের খবর, কেয়ারটেকার ও ড্রাইভারের মধ্যে তর্কবিতর্ক থেকেই প্রাক্তন ফুটবলারের বাড়িতে ঘটে যায় হাড়হিম ঘটনা। সূত্রের খবর, পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় মেয়ে পলার ৫ হাজার টাকা চুরি হওয়া নিয়ে অশান্তির সূত্রপাত। এই নিয়ে পরিচারকদের সতর্ক করেন পলা। বাড়িতে পাঁচজন কাজ করেন, ১) বরুণ ঘোষ পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন।
গোপীনাথ মুহুরী (৪৮) বাড়ির কেয়ারটেকার। এরা দুজনেই এই বাড়িতেই থাকতেন। এছাড়া ছিলেন তিনজন মহিলা পরিচারিকা। এরপরে বাড়িতে থাকা দুজন গতকাল দোলের দিন একসঙ্গে মদ্যপান করতে বসেন, সেখানেই পুরনো কথা উঠে ঝামেলা তৈরি হয় বরুণ ও গোপীনাথের মধ্যে। মুহূর্তের বচসা পৌঁছয় রক্তারক্তিতে। এলোপাথাড়ি ছুরি দিয়ে আঘাত চলে মুহুর্মুহু।
বরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। মদ্যপান ঘিরেই ঝামেলা, না কি খুনের নেপথ্যে অন্য কারণ রয়েছে, তা ভাবাচ্ছে পুলিশকে। ধারাল অস্ত্র এল কোত্থেকে, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। বরুণ যদিও রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে গোপীনাথের পেটে ঢুকিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এই ঘটনায় বরুণ একাই যুক্ত, না কি অন্য কেউও যুক্ত ছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ ওই বাড়িতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা পৌঁছবে। নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হবে পরীক্ষার জন্য। বাড়ির বাইরের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাকি সদস্যরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পেয়েছিলেন কি না, ছুরি নিয়ে কাউকে দেখেছিলেন কি না, তা নিয়ে বয়ান নেওয়া হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের।