শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।

মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বিতর্কিত সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জেরে তাঁকে দলীয়ভাবে শোকজ করার ঘটনায় নতুন মোড় নিল বাংলার রাজ্য রাজনীতি। নিজের অবস্থান থেকে 180 ডিগ্রি ঘুরে হঠাৎ করেই হুমায়ুন কবীরের পাশে দাঁড়িয়ে মমতাকে আক্রমণ করলেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

“পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নিরপেক্ষ হচ্ছেন না কেন? হুমায়ুন কবীরকে শো-কজ করছেন। হুমায়ুন কবীর যাঁর বিরুদ্ধে বলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কী করেছেন? হুমায়ুন কবীর, হুমায়ুন মুখার্জি বা ব্যানার্জি হলে আপনি করতেন? কারণ হিন্দু ভোটকে পকেটে পুরতে চাইছেন।” রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’র অভিযোগ করলেন অধীর চৌধুরী।

ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘চ্যাংদোলা’ মন্তব্যের জবাবে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “মারতে এলে রসগোল্লা খাওয়াব নাকি? ঠুসে দেব। ক্ষমতা থাকলে মুর্শিদাবাদে আসুন, দেখে নেব।” এই মন্তব্যের পর তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে শো-কজ করেছে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দলের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার শো-কজ নোটিস। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয়বার শো-কজ হলে তাঁকে সাসপেন্ডও করা হতে পারে।

অধীর চৌধুরী এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “হুমায়ুন কবীর যাঁর বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী? হুমায়ুন যদি মুখার্জি বা ব্যানার্জি হতেন, তাহলে কি একই ব্যবস্থা নেওয়া হতো? এটা স্পষ্ট যে হিন্দু ভোটকে পকেটে পুরতে চাইছেন তিনি। এটাই তাঁর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।” অধীরের দাবি, মমতা একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে খুশি করার জন্য হুমায়ুন কবীরের উপর কঠোরতা দেখাচ্ছেন, যা রাজ্যের শাসক দলের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

 

অধীর রঞ্জন চৌধুরীর করা এই প্রশ্নের পাল্টা উত্তরে হুমায়ুন কবীর বলেন, “অধীরবাবুকে আমি আশ্বস্ত করছি হুমায়ুন কবীরকে শোকজ করেছে বিধানসভার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। শোকজ নিয়ে আমি বিচলিত নই। সেটা রাজনীতির অঙ্গ। রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকতে গেলে আপনার জীবনে অনেক উত্থান-পতন হবে। আমি অনেক জায়গায় সমালোচিত হতে হয়েছে এবং কেস খেতে হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস আমাকে শোকজ করেছে, কী কারণে শোকজ করা হয়েছে তা লিখিত ভাবে দিয়েছে, আমিও যথাযথ উত্তর পাঠিয়ে দিয়েছি। এখনও কী কারণে করেছে, তা জানা যায়নি। গেল গেল রব তোলার কী দরকার।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *