সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
সুস্থভাবেই সম্পন্ন হল বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষের বিয়ে। নির্ধারিত সময়ে শুক্রবার গোধূলি লগ্নে বৈদিক মতে বিয়ে সম্পন্ন হলো দিলীপ ঘোষ এবং রিঙ্কু মজুমদারের।
মন্ত্র পড়ে, মালা বদল করে বিয়ে সারেন দিলীপ ঘোষ এবং রিঙ্কু মজুমদার। লাল বেনারসি শাড়িতে সেজে দিলীপ ঘোষের নিউটাউনের ফ্ল্যাটে হাজির হন রিঙ্কু মজুমদার। সেখানেই তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
সেখানেই মুখ খোলেন বিয়ের পরে হানিমুনে যাওয়া নিয়েও। বিদেশ কেন! দেশে এত সুন্দর জায়গা থাকতে, বিয়ের পরই হানিমুন নিয়ে বড় বার্তা দিলীপের।
পাশাপাশি তিনি বিয়ে উপলক্ষ্যে যারা যারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপি নেতা আরো বলেন, আমি সকলের কাছ থেকে আগামীদিনের আশীর্বাদ চাইছি। রাজনৈতিক কর্মকান্ড যেমন চলছিল তেমনই চলবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আজ দিলীপ ঘোষকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি ফুলের তোড়া পাঠিয়ে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। এপ্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এর জন্য ওনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

দিলীপ ঘোষ বলেন, “সবই দায়িত্ব পালন হয়ে গেছে। জীবনে বিয়েটাই বাকি ছিল। এটার জন্য যেন পরেরবার যেন পৃথিবীতে আসতে না হয়। বাকি সব হয়ে গেছে। শুধু এটাই বাকি ছিল। ভাবলাম এটাও হয়ে যাক। এবার মায়ের দায়িত্ব পালন করা হয়নি। এবার মায়ের দায়িত্ব পালন করব। ৬ বছর বয়স থেকে বাড়িছাড়া। মায়ের সেবা করব। মা আমার কাছে থাকতে এসেছেন।

আমি বেরিয়ে গেলে ওনাকে জল দেওয়ার লোকও নেই। এবার সেই দায়িত্বটা পালন করার দরকার ছিল। রাজনীতি যেমন করছি করব। দল যে কাজ দেবে সেটা করব। এখন মা আছে, আমি আর তৃতীয় একজন এলেন। বাকি আমার ভাই ও তাঁদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার দায়িত্ব যেটা পালন করার সেটা করেছি। মাকেও দেখার দরকার ছিল। তাই আমাকে এটা করতে হল।”

দিলীপ ঘোষকে স্বামী হিসেবে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত রিঙ্কু মজুমদারও। তিনি বলেন, “এটা আমার কাছে সোনার সুযোগ। একুশের ভোটের আগে ইকো পার্কে তখন কথাবার্তা হতো। এমপি ইলেকশনে ওনার সঙ্গে একটু কথাবার্তা হয়েছে। যখন উনি হেরে গেলেন তখন আমি একটু ঘনঘন যেতাম পার্কে। ভাবলাম এখন ওনার কাছে ভিড় কমে যাবে।”

সকাল থেকে দিলীপ ঘোষকে শুভেচ্ছা জানাতে নিউটাউনের বাড়িতে হাজির বঙ্গ বিজেপির তাবড় নেতৃত্ব। বেলায় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির ডাকাবুকো নেতাকে পাঠালেন বিশেষ উপহার। তালিকায় ছিল রঙ বাহারি ফুলের তোড়া, রাজ্য সরকারের তরফে পাঠানো হয় বিয়ে উপলক্ষ্যে বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা।