শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
মুরলীধর সেন লেনে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরের মূল অডিটোরিয়াম থেকে সরিয়ে দেওয়া হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দল নেতার শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। তার সঙ্গে সঙ্গেই নয়া রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বুঝিয়ে দিলেন বাংলার বিজেপিতে শুরু হতে চলেছে নয়া জমানা।
দিন তিনেক আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়েছেন শমীক। এদিন মুরলীধর সেন লেনে দলের রাজ্য দফতরে তিনি যখন বৈঠক করছেন, তখন পিছনে শুধু বিজেপির প্রতীক লাগানো ব্যানার। যা নিয়ে প্রশ্ন করতেই রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি বললেন, “নেতার থেকে দল বড়। দলের থেকে দেশ বড়। এটাই বিজেপির স্লোগান। আর ব্যাকড্রপটা তারই প্রতিফলন।”
ইতিমধ্যে ৬, মুরলীধর সেন লেনের দলীয় কার্যালয়ের ভোলবদল করে ফেলেছেন রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার কার্যালয় থেকে সমস্ত নেতার ছবি সরিয়ে বড় করে লাগানো হয়েছে দলের প্রতীক পদ্মের ছবি। এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার ছবিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কারণ, তিনি মনে করেন যে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। এবার রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে নিয়েও মুখ খুললেন বর্তমান শমীক ভট্টাচার্য। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, বুঝিয়ে দিলেন। তাঁর কথায়, ”দিলীপ ঘোষ কোথাও যাননি। উনি কোথাও যাবেনও না। দিলীপ ঘোষ কোনও সেলেবেল কমোডিটি নয়। দল ঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। দিলীপ ঘোষকে যেখানে কাজে লাগানোর, সেখানেই লাগানো হবে। দিলীপ ঘোষ ছিলেন, আছেন, থাকবেন।” এখানেই না থেমে তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষ অন্য কোথাও যাবেন না। যেতে পারবেন না। জায়ে তো জায়ে কাহা।”
অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে ঢোকার মুখে সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের ছবি সরিয়ে সেখানে নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ছবি লাগানো হয়েছে। তারই সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছবিও সরানো হয়েছে। এর কারণ নিয়ে সকাল থেকে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। বিকেলে তা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। আর সেই জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূলকে খোঁচাও দিলেন।
এতদিন ৬ মুরলীধর সেন লেনে রাজ্য বিজেপি দফতরে প্রবেশ পথের একপাশে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার ছবি। অন্যপাশে ছিল সুকান্ত ও শুভেন্দুর ছবি। এদিন সকালে নতুন ছবি লাগানো হয়। সেখানে একদিকে রইল মোদী ও নাড্ডার ছবি। অন্যপাশে শুধু শমীকের ছবি টাঙানো হয়েছে। আবার দফতরের ভিতরে যেখানে বিজেপি নেতারা সাংবাদিক বৈঠক করেন, সেখানে এতদিন একদিকে মোদী ও নাড্ডার ছবি ও অন্যদিকে শুভেন্দু ও সুকান্তের ছবি ছিল। এদিন সেখানে শুধু বিজেপির প্রতীক লাগানো ব্যানার টাঙানো হয়েছে।

এই নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শমীকের জবাব, “বাইরের গেটে বিরোধী দলনেতার ছবি উধাও, এটা আমি বিশ্বাস করি না। বিরোধী দলনেতার ছবি তো শুধু বিজেপির হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত নয়। তৃণমূলের হৃদয়েও প্রতিষ্ঠিত। তৃণমূল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরোধী দলনেতাকে স্মরণ করে। রাতে ঘুম ভেঙে গেলেও শুভেন্দু শুভেন্দু বলে জল খেয়ে আবার ঘুমোয়। আবার সকাল থেকে শুভেন্দু ভজনা শুরু হয়। উনি তো সবার হৃদয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর পরবর্তী পোস্ট তো বিরোধী দলনেতা।”