সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন, কিন্তু জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের অডিটোরিয়ামে আলো ছড়িয়ে দিলেন বিখ্যাত অভিনেতা, সমাজকর্মী ও অভিনয় প্রশিক্ষক ববি চক্রবর্তী, যখন তিনি পরিচালনা করলেন তাঁর ৪৬৬তম সচেতনতামূলক সেশন 'I Am The King of My Mind'।
কী নিয়ে এই কর্মসূচি?
ববি চক্রবর্তীর এই সচেতনতামূলক অভিযান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত একটি বিশ্বব্যাপী যুব অভিযানের অংশ, যেখানে তিনি তরুণদের মস্তিষ্কের রাজা হতে শেখান—নিজের ইচ্ছাশক্তি, মূল্যবোধ ও সচেতনতার মাধ্যমে নিজের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনা করা।
তিনি তাঁর অনন্য কৌশল—রসিকতা, বাস্তবভিত্তিক ভয়ের গল্প, সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট ও বাচনভঙ্গি—ব্যবহার করে ছাত্রছাত্রীদের বোঝান কেন ধূমপান, মদ্যপান, মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, তিনি সতর্ক করেন আজকের কিছু ভয়ঙ্কর প্রবণতা থেকে যেমন—
গালিগালাজ
জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য অনলাইন অশ্লীলতা
অনলাইন জুয়ার আসক্তি
বন্ধুদের অপমান বা বুলিং ইত্যাদি।

সৈনিকদের তালিকা
এই অভিযানে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের তিনি নিজের ভাষায় বলেন ‘সৈনিক’।
অফিশিয়াল ফটোগ্রাফার ছিলেন সৈনিক রূপম মণ্ডল,
প্রথম সৈনিক উপাধি পেলেন কাঞ্জা দাস
‘The Trendsetter’ উপাধি অর্জন করলেন মাহিন দেবান।
সেশনের শেষে হঠাৎ আয়োজন করা এক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন—উৎস প্রামাণিক, কুশান চক্রবর্তী ও আকাশ দেবনাথ। তাঁদের পাশাপাশি রূপমকেও পুরস্কারস্বরূপ HCF টি-শার্ট ও কমিউনিটি সার্ভিস সার্টিফিকেট প্রদান করেন ববি।

স্কুলের ভূমিকা
Principal সুশান্ত দাস নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ববির এই মিশনের সমর্থক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাদের স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের যেভাবে ২.৫ ঘণ্টা ধরে ববি মনোযোগে বেঁধে রেখেছিলেন, তা অবিশ্বাস্য। ওনার সমাজসেবামূলক কাজ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক নতুন দিশা দেখায়।”

ববির বিশ্বজুড়ে চলা আন্দোলন
#iamthekingofmymind হ্যাশট্যাগটি এখন একটি যুব আন্দোলনের প্রতীক। এই কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ভারতের বাইরেও বহু স্কুল, কলেজ ও যুব কেন্দ্র কভার করেছে। ৪৬৬টি সেশন অতিক্রম করে আজ এটি একটি স্বতন্ত্র সচেতনতা প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

ববি চক্রবর্তীর ‘I Am The King of My Mind’ শুধু একটি সেশন নয়, এটি একটি নীরব বিপ্লব। যেখানে ছাত্রছাত্রীরা শেখে কিভাবে নিজেদের মনের উপর নিয়ন্ত্রণ রেখে সঠিক পথে চলা যায়।
সোনারপুরের জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুল আজ পেল নতুন প্রজন্মের কিছু ‘সৈনিক’, যারা ভবিষ্যতে সমাজকে পথ দেখাবে।