শারদোৎসবের মৌসুমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন আনন্দ-উৎসবের আমেজ, তেমনই চুরি-ডাকাতির আশঙ্কাও বাড়ে। প্রতি বছর পুজোর সময় অসংখ্য মানুষ বাড়ি তালা দিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন। সেই সুযোগেই সক্রিয় হয় দুষ্কৃতীরা। এ বছর তাই বিশেষ সতর্কবার্তা দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন— “ঠাকুর দেখতে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার কোনও প্রয়োজন নেই।” আজকের দিনে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপে মানুষজন পুজোর মুহূর্ত শেয়ার করতে অভ্যস্ত। কিন্তু এর ফলেই অপরাধীদের কাছে সহজে পৌঁছে যায় তথ্য— কে, কখন, কোথায় আছেন। এর জেরে ফাঁকা বাড়ি চুরির ঘটনা বাড়ছে।
পুলিশের পরামর্শ কী?
1. সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট নয়: ঠাকুর দেখা বা বেড়ানোর ছবি, ভিডিও বা লোকেশন সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার না করাই ভালো। চাইলে পরে শেয়ার করা যেতে পারে।
2. প্রতিবেশীকে জানিয়ে যান: বাড়ি ফাঁকা রেখে বেরোলে অন্তত কাছের আত্মীয় বা প্রতিবেশীকে জানিয়ে যেতে হবে।
3. থানাকে অবহিত করুন: স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশ টহল দেবে। এবার প্রতিটি থানাকে একাধিক সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।
4. বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা: দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরে থাকবে মহিলা উইনার্স বাহিনী। পাশাপাশি জলপথে ও আকাশপথে ড্রোন নজরদারি থাকবে।
নিরাপত্তায় পুলিশের বাড়তি নজর
জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বাড়ি-বাড়ি টহলের পাশাপাশি অলিগলিতে মোবাইল ভ্যান ও বাইক টহল থাকবে। এছাড়া কাঁথি ও মহিষাদল শহরে ট্রাফিকের জন্য বিশেষ গাইড ম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে। পুজোর ভিড় সামলাতে জাতীয় সড়কেও বিশেষ ট্রাফিক প্ল্যান নেওয়া হয়েছে।
মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তায় এবার বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকা এবং ভিড়যুক্ত রাস্তার মোড়ে থাকবে মহিলা পুলিশ কর্মী ও উইনার্স টিম।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সতর্কতা?
পুলিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক সময় মানুষ আনন্দে এতটাই ডুবে থাকেন যে নিরাপত্তা নিয়ে আর ভাবেন না। অথচ অপরাধীরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সহজেই জেনে যায় কার বাড়ি ফাঁকা। এই প্রবণতা ঠেকাতেই পুলিশের এই উদ্যোগ।
পুলিশ সুপারের কথায়, “আমরা চাই মানুষ নির্ভয়ে ঠাকুর দেখুন। তবে তার জন্য কিছু নিয়ম মানা জরুরি। বাড়ির নিরাপত্তার ব্যাপারে আপনারা সচেতন হলে পুলিশও তার দায়িত্ব আরও ভালভাবে পালন করতে পারবে।”
শারদোৎসবের আনন্দ নির্ভয়ে উপভোগ করতে হলে দরকার সামান্য সচেতনতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ির খবর না জানানো, থানাকে খবর দেওয়া এবং পুলিশের নির্দেশিকা মেনে চললেই এই পুজো আরও নিরাপদ হবে। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি নিরাপত্তাই হোক এ বছরের মূল মন্ত্র।