মণিপুরের ইম্ফলের রিমস হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতার সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে শেষ পর্যন্ত থেমে গেল তাঁর শিল্পজীবন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, “মণিপুরের ঐতিহ্যশালী কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজস্ব মৌলিক ভাবনা যুক্ত করে এক অভিনব পারফর্মিং শিল্পের জন্ম দিয়েছিলেন রতন থিয়াম। তাঁর প্রয়াণে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল।”
‘থিয়েটার অফ রুটস’-এর পথিকৃৎ
সত্তরের দশকে শুরু হওয়া নাট্য আন্দোলন ‘থিয়েটার অফ রুটস’-এর অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন রতন থিয়াম। তিনি এমন একজন শিল্পী, যিনি মণিপুরের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে। তাঁর নাটকে প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য, বৌদ্ধ দর্শন, মণিপুরী লোকসংস্কৃতি এবং সমসাময়িক বাস্তবতাকে অনন্যভাবে মিশিয়েছেন।
দেশ-বিদেশে প্রশংসিত থিয়ামের নাটক
রতন থিয়ামের নাটক কেবল মণিপুর বা উত্তর-পূর্বেই নয়, গোটা ভারত ও বিদেশের দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে। তাঁর নির্দেশিত নাটক যেমন—‘উরুবাঙম’, ‘দ্রৌপদী’, ‘আন্দ নট ইয়া টু গো অন’, ইত্যাদি নাট্যরসিকদের স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। তাঁর নাট্যশৈলী দর্শকদের ভাবায়, আন্দোলিত করে, এবং প্রশ্ন তোলে সমাজ ও জীবনের গভীর সত্য নিয়ে।
সম্মান ও অবদান
সঙ্গীত নাটক আকাদেমির সহ-সভাপতি ও পরে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা (NSD)-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর অবদানের জন্য পেয়েছেন পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ-সহ একাধিক সম্মান।
অশান্ত মাটিতে বিদায়
রতন থিয়াম এমন এক শিল্পী, যিনি নিজ মাতৃভূমি মণিপুরকে ভালবেসেছেন প্রাণ দিয়ে। কিন্তু শেষ জীবনে সেই মাটিকে দেখলেন সংঘাতে জর্জরিত। সংবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মানসিক ভার ও শারীরিক দুর্বলতা মিলিয়েই শেষ হয়ে গেল তাঁর জীবনযুদ্ধ।
রতন থিয়ামের প্রয়াণে থেমে গেল এক যুগান্তকারী নাট্যযাত্রা। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিগুলি চিরকাল বেঁচে থাকবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে। তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন—ভারতীয় নাটকের ইতিহাসে এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হিসেবে।