দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত আরোহীর পাশে শুভেন্দু, জনতার দরবারে চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বিধানসভা নির্বাচনের আগেই শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সরকার গঠন করলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে সাধারণ মানুষ জানাতে পারবেন নিজেদের সমস্যার কথা। সেইমতো মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথে নেওয়ার পর থেকেই নিয়মিত শর্ট লেখে বিজেপি পার্টি অফিসে জনতার দরবার কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনেন তিনি। শনিবার তেমনি জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে দরবার করলেন দুরারোগ্য ব্যাধি আক্রান্ত ছোট্ট আরোহীর পরিবার।
৯ বছরের ছোট্ট আরোহী। ধাপা মাঠপুকুর এলাকার বাসিন্দা। জন্ম থেকেই গলা ফুলছে আরোহীর! টিউমার ধরা পড়েছে। এখন আর খেতেও পারে না ছোট্ট আরোহী। ডাক্তাররা বলেছেন, ব্যয়বহুল চিকিৎসা। চিকিৎসার সেই বিপুল খরচ বহন করা সম্ভব নয় লোকের বাড়ি বাড়ি কাজ করা মায়ের। তাই বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি নিয়ে জনতার দরবারে জনতার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ছুটে এসেছিলেন অসহায় মা করুণা বাউড়ি। শুনলেন, আশ্বস্ত করলেন, ছোট্ট আরোহীর চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবার চেয়েছিল, ভেলোরে নিয়ে গিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করাতে। সেই দাবি পূরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিনা খরচে বিমানে ভেলোরে নিয়ে গিয়ে আরোহীর চিকিৎসা চলবে। পরিবারকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা ও আশ্বাস পেয়ে এখন মনে অনেকটা বল পাচ্ছেন অসহায় মা। মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবে! আশার আলো দেখছেন মা। এদিন জনতার দরবারে হাজির হয়েছিলেন ফার্স্ট টিয়ার সুপারভাইজার (এফটিএস)-রাও। আশাকর্মীদের তদারকির দায়িত্বে থাকা এই কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা মাত্র সাড়ে ছ’হাজার টাকা ভাতা পান এবং অতিরিক্ত কোনও সুযোগ-সুবিধা নেই। বেতন বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবি নিয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।
আরোহীর বাবা-মায়ের পাশাপাশি আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে বিচার চাইতে ছুটে এসেছিলেন সন্তান হারা দুই মা। এক জন বাঁশদ্রোণীর একটি স্কুলে মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত ছাত্র আয়ুষকুমার নাথের মা, অন্য জন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রহস্যমৃত্যুর শিকার ডাক্তারি পড়ুয়া অমর্ত্য ঘোষালের মা। দু’জনেই তাঁদের সন্তানের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। গত ২৪ মে মৃত্যু হয় আট বছরের আয়ুষকুমার নাথের। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়নি। পরে স্কুলের সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয় সে। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
আয়ুষের পরিবারের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন আয়ুষের মা। সূত্রের খবর, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

আবার ঠিক দুবছর আগে দূর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ওপর বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। অমর্ত্য ঘোষালের এই মৃত্যুতে অভয়াকাণ্ডের মতই অভিযোগ পরিবারের। ২০২৪ সালে আরজি কর-কাণ্ডের কয়েক মাস আগে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছিল ওই ডাক্তারি পড়ুয়ার।
পরিবারের অভিযোগ, অমর্ত্য ‘থ্রেট কালচার’-এর শিকার হয়েছিল এবং তার মৃত্যুর তদন্তে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। অমর্ত্যের পরিবার আগে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও সেই তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে পরিবারের। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পরিবারের দাবি, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন।