সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ভাঙড়ের আইএসএফ (ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে আইনি নোটিস পাঠালেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ৩ এপ্রিল সংসদে ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল পাশের সময় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদৌ উপস্থিত ছিলেন কি না, এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। শুধু তাই নয়, সংসদে অভিষেকের উপস্থিতি নিয়ে একটি বিবৃতিও দেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক। নওশাদ সিদ্দিকিকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বিবৃতিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন। অভিষেকের আইনজীবী সঞ্জয় বসু এই আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন।
নওশাদ সিদ্দিকি তাঁর বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘আজকে (৩ এপ্রিল) আপনি অভিষেকের বিষয়ে বলছেন? অভিষেক সংসদে ছিলেন? আমি তো অনেকক্ষণ ভিডিও দেখছিলাম। আমি তো এটা খুঁজছি যে, সংসদে তৃণমূলের ক’জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন এবং ক’জন উপস্থিত ছিলেন না। আমিও দেখছি, তাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তার পরে কী ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণকে নিয়ে করতে হয় সেটা আমি দেখাব।’
এই বিষয়ে সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, “নওশাদ কি পাগল হয়ে গেছে। নওশাদ ফালতু কথা বলছে। অভিষেক সেদিন রাত তিনটে অবধি ছিল। আমার পাশে বসেছিল অভিষেক।” আইনজীবী জানিয়েছেন, নোটিস পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নওশাদ তাঁর বিবৃতি প্রত্যাহার না করলে এবং ওই বিবৃতির ব্যাখ্যা না দিলে অভিষেক কড়া আইনি পদক্ষেপ করবেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর পাঠানো নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, নওশাদ সিদ্দিকি সংসদে অভিষেকের উপস্থিতি নিয়ে ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছেন। তার এই বিবৃতি ও অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তা অস্বীকার করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

নোটিসে আরও বলা হয়েছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সাংসদ অভিষেকের সহানুভূতি ও সৌভ্রাতৃত্ব বোধ সর্বদা বিদ্যমান। সেই কারণেই তিনি সংসদে ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল পাশের বিরোধিতা করেছিলেন। ৩ এপ্রিল সংসদে ওই সংশোধনী বিল পাশ নিয়ে ভোটাভুটির সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সদনে উপস্থিত ছিলেন। অভিষেকের উপস্থিতি প্রমাণস্বরূপ একটি ছবিও ওই আইনি নোটিসের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই নোটিস পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নওশাদ সিদ্দিকি যদি তার বিতর্কিত বিবৃতি প্রত্যাহার না করেন এবং ওই বিবৃতির যথাযথ ব্যাখ্যা না দেন, তাহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এই আইনি নোটিস ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।