রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
(SIR update), রাজ্যজুড়ে যখন SIR Verification নিয়ে তুমুল চাপানউতোর, অভিযোগ, আতঙ্ক— ঠিক সেই সময়ই উঠে এল আরও ভয়াবহ ঘটনা। Fake Aadhaar Card Racket–এ যুক্ত থাকার অভিযোগে সোনারপুরের ঘাসিয়ারা এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম কল্পদেব মণ্ডল, বয়স প্রায় ৩২। সে মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা ব্লকের কুমিরমারি এলাকার বাসিন্দা হলেও বেশ কিছুদিন ধরেই ঘাসিয়ারায় ভাড়া বাড়িতে থাকছিল বলে জানা গিয়েছে।
নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার রাতে সোনারপুর থানার পুলিশ হানা দেয় তার ভাড়া বাড়িতে। সেখানে চলে তল্লাশি। আর সেই তল্লাশিতেই চমকে ওঠেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হয়েছে fake aadhaar card papers, নামবিহীন আধার ডকুমেন্ট, fingerprint scanner machine, web camera, high resolution scanner, আধুনিক printer, laptop–সহ আধার তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম।
পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই এই যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চলছিল ভুয়ো আধার তৈরির কারবার। এমনকি বহু মানুষের তথ্য ও biometric data ব্যবহার করে গোপনে তৈরি করা হচ্ছিল নকল পরিচয়পত্র। তদন্তে উঠে এসেছে ভয়ংকর তথ্য— বিহার ও উত্তরপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যের মানুষের পরিচয়পত্রের ডেটা চুরি করে ব্যবহার করা হত। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে—বাংলাদেশি নাগরিকদেরও illegal Aadhaar Card তৈরি করে দেওয়া হত মোটা টাকা নিয়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কল্পদেব এক other state resident ID ব্যবহার করত এই কাজে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই র্যাকেটের পিছনে আরও বড় চক্র রয়েছে কি না। তাঁর সঙ্গে কেউ যুক্ত ছিল কি না, তা জানতেই জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, এই র্যাকেট শুধু অর্থ নয়, বরং national security risk তৈরি করতে পারে। কারণ, আধার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র এবং বহু সরকারি সুবিধা, ব্যাংক পরিষেবা ও ভোটার যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
এ প্রসঙ্গে এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন—
“এই ঘটনায় স্পষ্ট, Fake Aadhaar Card Racket সংগঠিত ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। উদ্ধার হওয়া যন্ত্রপাতি ও ডেটা বিশ্লেষণ করে পুরো নেটওয়ার্ককে সামনে আনা হবে।”

বর্তমানে কল্পদেবকে আদালতে তোলা হয়েছে এবং তাকে Police Custodyতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া laptop data, fingerprint log এবং print records পরীক্ষা করছে সাইবার সেল।
SIR নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ানো সময়েই এই ঘটনা রাজ্যের নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।