দুর্গাপুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। প্রতিবছর রাজ্য সরকার দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দিয়ে থাকে। কিন্তু সেই টাকা ঠিক কোথায় খরচ হচ্ছে, তা নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকারকে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ—যদি কোনও ক্লাব অনুদানের টাকা খরচের হিসাব না দেয়, তবে তাদের অনুদান বন্ধ করে দিতে হবে।
আদালতের নির্দেশ
বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেই হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে—
গত বছর পর্যন্ত কতগুলি ক্লাব অনুদানের টাকা নিয়ে হিসাব দিয়েছে।
কতগুলি ক্লাব এখনও হিসাব জমা দেয়নি।
যারা হিসাব দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুজোর পরে এই মামলার শুনানি অর্থহীন। কারণ পুজোর আগেই জানা জরুরি কোন কোন ক্লাব নির্দেশ মানছে না। তাই এবার অনুদান দেওয়ার আগে হিসাবের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার পটভূমি
দুর্গাপুজো কমিটিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা করেন সৌরভ দত্ত। তাঁর আইনজীবীদের অভিযোগ, জনগণের করের টাকা পুজো কমিটিগুলিকে বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই সেই টাকা খরচ হচ্ছে না যথাযথভাবে। এমনকি ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটও অনেক ক্লাব জমা দেয়নি।
রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই টাকা আসলে জনগণের স্বার্থেই ব্যবহার করা হয়। যেমন—‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ প্রচার, কোভিডের সময়ে জনসচেতনতা এবং পুলিশি খরচ। কিন্তু মামলাকারীর দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বহু ক্লাব অনুদানের টাকা নিয়ে এখনও হিসাব দেয়নি।
হাইকোর্টের অবস্থান
আদালতের মতে, অনুদানের অর্থ স্বচ্ছভাবে খরচ হচ্ছে কি না, তা জানার অধিকার সাধারণ মানুষের আছে। তাই হিসাব না দিলে অনুদান দেওয়া উচিত নয়। বিচারপতি পালের মন্তব্য—“যারা টাকা নিয়েও হিসাব দেয় না, তাদের ব্যাপারে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে অনুদান বন্ধ করুন।”
পরবর্তী শুনানি
আগামী বুধবার এই মামলার শুনানি হবে। তার আগেই রাজ্য সরকারকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, সরকারি অর্থের অপব্যবহার হলে তার দায়ও সরকারের ওপর বর্তাবে। তাই এবার দুর্গাপুজো অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা রাজ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
দুর্গাপুজো কেবল আনন্দের উৎসব নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি আবেগ। কিন্তু জনগণের টাকায় যদি সেই উৎসব হয়, তবে সেই টাকার সঠিক হিসাব দেওয়া প্রতিটি ক্লাবের কর্তব্য। আদালতের এই নির্দেশে অনুদান ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা।