শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
নির্বাচন কমিশন যেভাবে রাতারাতি এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য চাপ তৈরি করছে, সেই চাপ নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমি বাধ্য হচ্ছি আত্মহত্যা করতে। এই মর্মে সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিজের রাজ্য গুজরাতের এক বুথ লেভেল অফিসার। পরিবারের দাবি, এআসআইআরের কাজে মানসিক চাপে ভুগছিলেন। সেই মানসিক অবসাদ থেকেই চরম পদক্ষেপ করলেন তিনি। সুইসাইড নোটে না কি সেই কথা উল্লেখ করেছেন মৃত বিএলও, দাবি পরিবারের। পরিবারের দাবি, গত কয়েক দিন স্কুল সামলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছিলেন অরবিন্দ। শুধু তা-ই নয়, ভোটারদের ফর্ম পূরণ হয়ে গেলে, তা সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে অনলাইনে আপলোড করা সবই করতে হচ্ছিল। তা নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন অরবিন্দ।
রাজস্থান কেরালা তামিলনাড়ু এবং বাংলায় এর আগেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চাপে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন আরো অন্তত ৭ বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও। এতদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা শুধুমাত্র বিরোধী শাসিত রাজ্যে এমন ঘটনা ঘটছে বলে আত্মহত্যার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাতে এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে মুখে কুলুপ এঁটেছেন দেশের ভাজপা নেতারা। প্রসঙ্গত জাতীয় নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভুদের খুশি করার জন্য যে কাজ তিন বছরে হওয়া উচিত সেই কাজ মাত্র তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য বুথ লেভেল অফিসার বা বি এল ওদের উপরে অস্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করছে বলে তারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন এমন অভিযোগ জানিয়ে গতকাল দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ চিঠি দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সেই চিঠিতে মমতা আবেদন জানিয়েছিলেন সঠিক পরিকল্পনা করে যথেষ্ট সময় হাতে রেখে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয় ভাবনা চিন্তা করুক নির্বাচন কমিশন এবং তার আগে এইভাবে তৈরি করি এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো স্থগিত রাখা হোক। মমতার আবেদন যে যথাযথ ছিল তার প্রমাণ আজ মিলল আরো একবার প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাটে এই আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে।
গুজরাতের সোমনাথ জেলার কোডিনার তালুকের ছারা গ্রামের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক বছর চল্লিশের অশোক বাধের বিএলও’র দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু কাজের প্রচণ্ড চাপে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মৃত্যুর আগে স্ত্রী সঙ্গীতাকে উদ্দেশ্য করে একটি সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছেন তিনি। তাতে অরবিন্দ লিখেছেন, আমার দ্বারা আর এসআইআরের কাজ হবে না। গত কয়েকদিন ধরেই কাজের চাপে মানসিক অশান্তি ও ক্লান্তি বোধ করছি। তুমি নিজের আর আমাদের ছেলের খেয়াল রেখো। আমি তোমাদের দুজনকেই ভীষণ ভালবাসি। কিন্তু এখন আমি অসহায়। আমার কাছে আর বিকল্প কোনও পথই খোলা নেই। আমার ব্যাগেই এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে। ওই নথিগুলি স্কুলে জমা করে দিয়ে এসো।’ এর পরেই অরবিন্দ ইংরেজিতে লিখেছেন, আই এম ভেরি সরি মাই ডিয়ার ওয়াইফ সংগীতা এন্ড মাই লাভিং ডিয়ার সন কৃষয়।

গির সোমনাথের মহাকুমাশাসক এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এনভি উপাধ্যায় আত্মহত্যার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে।