সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ৪৫টি ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে ৩২ জন মারা গিয়েছেন। ৬ জন চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছেন। ৩ জন বিএলও-ও মারা গিয়েছেন এবং ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গত এক মাসে আমরা ৩৫ জনকে হারিয়েছি। এই কারণেই আমরা এসআইআর বাংলা-বিরোধী কর্মসূচির ডাক দিয়েছি।’ এভাবেই আজ রাজ্য জুড়ে প্রায় দশ হাজারের বেশি তৃণমূলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বড়সড় লড়াইয়ের বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি এসআইআর নিয়ে এবার দিল্লিতে বড়সড় প্রতিবাদে নামছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। সোমবার দলের নেতৃত্বের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠকে তার প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০ সাংসদকে নিয়ে একটি টিম গড়ে দিলেন তিনি। তাঁদের দিলেন বিশেষ দায়িত্ব। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হল তাঁদের। অভিষেকের পরামর্শ, দিল্লি গিয়ে সাক্ষাৎকারের সময় চাইতে হবে কমিশনের কাছে। ‘অপরিকল্পিত’ এসআইআর, তার যাবতীয় সমস্যা পেশ করতে হবে।
রাজ্যে এসআইআর শুরুর পর থেকেই তৃণমূল-বিজেপি তরজা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, শাসক দল ও তৃণমূলের দাবি এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। যা নিয়ে একাধিকবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। এবার এসআইআর নিয়ে তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুলায় বৈঠক করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সভার আগে থেকেই রাজনৈতিক মহল আশঙ্কা করেছিল, একাধিক জেলা নেতৃত্ব ধমক খেতে পারেন। ঠিক সেটাই হয়েছে এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে জেলা নেতৃত্বকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। পাশাপাশি উত্তবরঙ্গের ভোট ব্যাঙ্ক নিয়েও বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে বলে খবর সূত্র মারফত। শুধু ভোট ব্যাঙ্কের উপর নজর নয়, পাশাপাশি একবার একযোগে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে তোপ দাগলেন তিনি। জানা গিয়েছে, কর্মীদের আরও সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক।
‘মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বাংলা বিরোধী এসআইআর।’ এভাবেই সুর চড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর ইস্যুতে তপ্ত বাংলা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়ছে রাজনৈতিক তরজাও। এখানেই শেষ নয়, আগামী ৬ মাস যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। ভার্চুয়াল বৈঠকে কর্মীদের তিনি নির্দেশ দেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের ভোট রক্ষা শিবির, ক্যাম্প এবং যুদ্ধ কক্ষ ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত চলবে। আগামী ৬ মাস গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকেই সজাগ থাকতে হবে।’ অর্থাৎ শুধু এসআইআর নয়, একই সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল তৃণমূল নেতৃত্ব। এসআইআরের জেরে সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে সরব হওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। একই সঙ্গে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই লোকেরা চোর এবং তারা চুরি করবে…আমাদের তাদের হাতেনাতে ধরতে হবে। তারা সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করেছে।’ দিল্লি, মহারাষ্ট্রের উদাহরণ তুলে ধরেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘তারা বাংলায়ও একই কাজ করার চেষ্টা করছে। এই কারণেই আমরা ভোট রক্ষা শিবির শুরু করেছি। আমি আবারও বলব, আমাদের লক্ষ্য ১০০% এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়া।’
দিল্লিতে তৃণমূলের আন্দোলনের জন্য অভিষেক যে রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছেন সেই মতো প্রস্তুতি শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। তৃণমূল সূত্রের খবর, ১০ জনের এই দলে রয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র, প্রকাশ চিক বরাইক, সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর, সাকেত গোখলে। অভিষেক আরও জানিয়েছেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু অসুস্থ, তাই তিনি দিল্লি যেতে পারলে যাবেন, নইলে ৯ সাংসদের উপরই এই ভার দেওয়া হচ্ছে।