সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
সরকারি স্তরে নয় একজন জনপ্রতিনিধিও যে চাইলে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন তার নয়া নজির তৈরি করছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছর অভিষেকের মস্তিষ্কপ্রসূত স্বাস্থ্য পরিসেবার জন্য শুরু হওয়া সেবাশ্রয় সাড়া ফেলেছিল গোটা দেশজুড়ে। তারপরে এলাকার মানুষের আবেদনে সাড়া দিয়ে গত সপ্তাহ থেকে আবার শুরু করেছেন সেবাশ্রয় ২।
সেবাশ্রয় ২ শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই নজির গড়তে শুরু করে দিয়েছে বাংলা তথা দেশজুড়ে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মহেশতলার সেবাশ্রয় ২ শিবির থেকে সুপার স্পেশালিটি রেফারেলে ৩ জন রোগীর চিকিৎসা গতকাল অ্যাপোলো হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। প্রিন্স দত্ত – অ্যাপোলো হাসপাতালে প্লাস্টিক সার্জন ও জেনারেল সার্জনের দ্বারা চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। মহম্মদ সাদব – মহেশতলার বাসিন্দা, ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত; অ্যাপোলো হাসপাতালে ইএনটি ও হেড-নেক সার্জনদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা হয়েছে।অনুরাগ পাল – মহেশতলা মডেল ক্যাম্প ২ থেকে রেফার করা হয়; অ্যাপোলো হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক অর্থোপেডিক্স বিভাগে পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্থার শিকার সোনালী খাতুনের সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখা করতে যেতে পারেন বলে জানা গিয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে।
সোনালীর পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ
বাংলায় কথা বলার অপরাধে দিল্লিতে কাজ করতে যাওয়া বীরভূমের বাসিন্দা সোনালী খাতুনকে বাংলাদেশী সন্দেহে দাগিয়ে দিয়ে বিএসএফের সাহায্যে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করে পাঠিয়ে দিয়েছিল দিল্লী পুলিশ। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই করে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মিলেছে সাফল্য। শুক্রবারই ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন এবং তাঁর ৮ বছর বয়সী ছেলেকে। এরপর সোনালির চিকিৎসার জন্য তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করে তাঁর সন্তানের নামকরণের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। সোনালি বলেন, ‘আমি অনুরোধ করছি আমার ছেলে হোক বা মেয়ে হোক তাঁদের নামকরণ করুন মুখ্যমন্ত্রী।’ শনিবার সকালে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে ছাড়া পান সোনালি খাতুন। শুক্রবার রাতে নাবালক ছেলেকে নিয়ে সেখানেই ছিলেন তিনি। হাসপাতালে বসে দেশে ফেরানোর জন্য সোনালি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান।
এরপর শনিবার সোনালি মুরারইয়ের পাইকর গ্রামে তাঁর বাড়িতে দেখার করার পর তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারের মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনায় চোখে জল সোনালির। আনন্দাশ্রু দেখা যায় পরিবারের অন্যান্যদেরও। সাংসদ সামিরুল ইসলাম জানান, সোনালিকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেবেন তেমন নির্দেশ মেনে চলা হবে সোনালির স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখে। সেই মতো গ্রামে সামান্য অপেক্ষার পর সেই একই অ্যাম্বুল্যান্সে সোনালিকে রামপুরহাট হাসপাতালে এদিন নিয়ে যাওয়া হয়।