সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ভোট আসলেই সিপিএম অথবা তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশ বাংলার রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। কিন্তু বছর ঘুরলেই যেখানে বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সেই সময় দাঁড়িয়ে বাংলার শাসক দল তৃণমূল হোক অথবা প্রধান বিরোধীদল বিজেপি বা সিপিএম কংগ্রেস ব্রিগেডে রাজনৈতিক সমাবেশের কোন উদ্যোগ না দেখালেও নির্বাচনকে সামনে রেখে একের পর এক ধর্মীয় সমাবেশ বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা তৈরি করতে চলেছে।
গত রবিবার ব্রিগেডে বিজেপির মদতে এবং বঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির সমস্ত নেতাদের উপস্থিতিতে পাঁচ লক্ষ কন্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করেছিল সনাতনী সম্প্রদায়। সেখানে রাজ্যপালের উপস্থিতি যেমন যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি করেছে ঠিক তেমনভাবেই সেই সমাবেশে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েও এই গীতা পাঠের আয়োজনকে বিজেপির কর্মসূচি বলে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে এবারে ব্রিগেডকেই ধর্মীয় সমাবেশের জন্য বেছে নিতে চলেছে তৃণমূল পন্থী মতুয়াদের একটি সংগঠন। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক লক্ষ কন্ঠে হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করতে চলেছে মতুয়া সম্প্রদায়। এরপরই পাল্টা জবাব দিতে আসরে নামতে চলেছে কংগ্রেস। তারা আবার সহস্র কণ্ঠে সংবিধান পাঠ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মতুয়া সংঘের গোঁসাই পরিষদ ব্রিগেডে ১ লক্ষ কন্ঠে হরিনাম সংকীর্তন এর ঘোষণা করেছে। উদ্দেশ্য মতুয়াদের নাগরিকত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা ও ভোটার তালিকা থেকে নাম না সরানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরপন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। বিজেপিকে কড়া বার্তা দিতে আজ শুক্রবার সেই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই এক লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন করার কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরপন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের গোঁসাই পরিষদের সভাপতি নান্টু হালদার।
আজ সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা অরাজনৈতিক কর্মসূচি করতে চাই। লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন হবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই কোনও একটা দিন ঠিক করা হবে। এই কর্মসূচিতে কোনও রাজনৈতিক ছোঁয়া থাকবে না। সবাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে করছেন। কেউ গীতাপাঠের আয়োজন করছেন, কেউ কোরান পাঠের করবেন বলছেন। কিন্তু মতুয়ারা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কর্মসূচি করবে।’

বিজেপিকে জবাব দিতেই কী এমন আয়োজন? এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন নান্টু হালদার। নান্টু হালদারের বক্তব্য, ‘এসআইআরকে মাথায় রেখেই এই হরিনাম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। হরিনাম শেষে নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটার তালিকায় মতুয়াদের নাম রাখার আর্জি জানানো হবে। সিএএ’র ফর্ম ফিলআপ করেও তাঁরা যে এখনও নাগরিকত্ব পাননি তার প্রতিবাদ জানানো হবে।’ যদিও বিষয়টি নিয়ে পাল্টা বিজেপি নেতা প্রিয়াংগু পাণ্ডের কথায়, ‘সিএএ নিয়ে ওনাদের কেউ ভুল বুঝিয়েছেন। সব হিন্দুই নাগরিকত্ব পাবেন। আর মতুয়াদের হরিনাম সংকীর্তনের আমন্ত্রণ পেলে আমরা যাব।’
নন্তু হালদার যদিও এই কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘অন্যান্যরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গীতা পাঠ বা কোরান শরীফ পাঠ আয়োজন করে। আমাদের হরিনাম সংকীর্তন হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক; হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন, মুসলিম – সবাই এতে স্বাগত।’ তিনি স্পষ্ট জানান, ‘আমরা বিজেপির দ্বারা স্পনসরড নই। এতে বিজেপি, তৃণমূল, সিপিআই(এম) বা কংগ্রেসের কোনও ভূমিকা থাকবে না।’