প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
মুখের কালো দাগ, ছোপছোপ দাগ বা ব্রণের দাগ—এই সমস্যাগুলো আজকাল অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। দামি কসমেটিক বা পার্লারে ট্রিটমেন্ট নেওয়ার পরও অনেক সময় আশানুরূপ ফল মেলে না। এমন পরিস্থিতিতে দিদা-ঠাকুরমার সময় থেকে চলে আসা কিছু ঘরোয়া উপায় আবার নতুন করে ভরসা জোগাচ্ছে। ঠিক তেমনই এক কার্যকর ঘরোয়া পেস্ট তৈরি করা যায় ফিটকিরি ও মুলতানি মাটি দিয়ে, যা নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের কালো দাগ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে।
এই দুটি উপাদানই বাজারে খুব সহজে পাওয়া যায় এবং দামও বেশ সাশ্রয়ী। সবচেয়ে বড় কথা, এগুলি প্রাকৃতিক হওয়ায় ত্বকের উপর অতিরিক্ত কেমিক্যালের চাপ পড়ে না।
কেন ফিটকিরি ও মুলতানি মাটি?
ফিটকিরির রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যাস্ট্রিনজেন্ট গুণ। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রোমকূপ পরিষ্কার রাখতে কার্যকর। অন্যদিকে, মুলতানি মাটি ত্বক থেকে ময়লা, মৃত কোষ ও অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয়। এই দুই উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও সতেজ দেখাতে পারে।
কীভাবে পেস্ট তৈরি করবেন?
এই পেস্ট বানানোর পদ্ধতি খুবই সহজ।
প্রথমে ফিটকিরি এবং মুলতানি মাটি আলাদা আলাদা করে ভালোভাবে গুঁড়ো করে নিন।
এরপর একটি পরিষ্কার পাত্রে প্রায় ১০০ গ্রাম মুলতানি মাটির গুঁড়ো নিন।
এর সঙ্গে যোগ করুন ২৫ গ্রাম ফিটকিরি গুঁড়ো।
দুটিকে ভালোভাবে মিশিয়ে একটি শুকনো ও পরিষ্কার পাত্রে সংরক্ষণ করে রাখুন।
এই মিশ্রণটি আপনি বেশ কিছুদিন ব্যবহার করতে পারবেন।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
প্রয়োজন মতো সামান্য গুঁড়ো একটি ছোট পাত্রে নিন।
এবার এতে অল্প জল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
এই পেস্টটি মুখের যে জায়গায় কালো দাগ বা ছোপ রয়েছে, সেখানে লাগান।
২০ মিনিট মতো রেখে দিন, তারপর স্বাভাবিক জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
চাইলে এটি পুরো মুখেও ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
কী উপকার পাবেন?
নিয়মিত ব্যবহারে এই পেস্ট ত্বকের কালো দাগ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে।
ত্বক আরও পরিষ্কার ও সতেজ দেখাতে পারে।
অতিরিক্ত তেল কমে গিয়ে মুখে একটি স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা আসতে পারে।
ব্যবহার করার সময় যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন
সপ্তাহে ৩–৪ বারের বেশি ব্যবহার করবেন না।
পুরো মুখে লাগানোর আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করুন।
সংবেদনশীল ত্বক হলে বা কোনও সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
ত্বক সংক্রান্ত কোনও গুরুতর সমস্যায় আগে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ঘরোয়া এই সহজ পেস্ট নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে, অল্প খরচেই ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব।