সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারতীয় রেল। গুয়াহাটি থেকে কলকাতা—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মহানগরকে যুক্ত করতে চলেছে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন, যা রাতের যাত্রাকে করে তুলবে আরও দ্রুত, আরামদায়ক ও আধুনিক। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের যে চাহিদা ছিল—একটি আধুনিক, উচ্চগতির স্লিপার ট্রেন—এবার তা বাস্তব রূপ পেতে চলেছে।
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, একাধিক সফল ট্রায়াল রান ও প্রয়োজনীয় কারিগরি অনুমোদনের পর এই বিশেষ ট্রেন পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে এই ট্রেনের উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি। রেলমন্ত্রীর কথায়, এই ট্রেন ব্যবসায়ী, পর্যটক, পড়ুয়া এবং পরিবার—সব শ্রেণির যাত্রীর রাতের যাত্রার অভিজ্ঞতাই বদলে দেবে।
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের চূড়ান্ত উচ্চগতির পরীক্ষা সম্প্রতি কোটা–নাগদা রুটে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার সময় ট্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার গতি ছুঁয়েছে, যা ভারতীয় রেলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক বড় উদাহরণ। প্রথম পর্যায়ে এই ট্রেন চলবে গুয়াহাটি থেকে কলকাতা রুটে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে পূর্ব ভারতের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে।
১৬টি কোচ নিয়ে গঠিত এই ট্রেনে থাকছে আধুনিক এসি স্লিপার কোচ। এর মধ্যে ১১টি থ্রি টিয়ার এসি, ৪টি টু টিয়ার এসি এবং ১টি ফার্স্ট এসি কোচ। মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮২৩ জন। থ্রি টিয়ার এসিতে ৬১১ জন, টু টিয়ার এসিতে ১৮৮ জন এবং ফার্স্ট এসিতে ২৪ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।
ভাড়ার ক্ষেত্রেও যাত্রীদের জন্য রাখা হয়েছে তুলনামূলকভাবে যুক্তিসঙ্গত হার। খাবারসহ থ্রি টিয়ার এসির ভাড়া আনুমানিক ২,৩০০ টাকা, টু টিয়ার এসিতে প্রায় ৩,০০০ টাকা এবং ফার্স্ট এসিতে প্রায় ৩,৬০০ টাকা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ট্রেনটির নকশা করা হয়েছে। উন্নত কুশনযুক্ত আরামদায়ক বার্থ, স্বয়ংক্রিয় দরজা ও ভেস্টিবিউল, উন্নত সাসপেনশন ব্যবস্থা এবং শব্দ কমানোর বিশেষ প্রযুক্তি যাত্রাকে করবে আরও মসৃণ ও শান্ত। প্রশস্ত কোচ, আধুনিক আলো এবং ব্যবহারবান্ধব সুযোগ-সুবিধা রাতের দীর্ঘ যাত্রাকেও আরামদায়ক করে তুলবে।

নিরাপত্তার দিক থেকেও এই ট্রেন অত্যাধুনিক। এতে থাকছে ‘কবচ’ অ্যান্টি-কলিশন সিস্টেম, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগের জন্য টক-ব্যাক ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ জীবাণুনাশক প্রযুক্তি। চালকের কেবিনেও যুক্ত হয়েছে আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে, বায়ুগতিগত নকশা, স্বয়ংক্রিয় বাহ্যিক দরজা এবং দেশীয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন ভারতীয় রেলের এক নতুন গর্ব হয়ে উঠতে চলেছে।