শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“সন্দেশখালি ৭০০ ভোটে লিড দিয়েছে বিজেপি-কে। নিশ্চিন্ত থাকুন, শাহজাহানের দাদাগিরিকে অতীত করেছি, অতীতই থাকবে। কাদের মোল্লা, যে গর্তেই তুমি থাকো না কেন, টেনে বের করে এনে আইনের সাজা দেব। সবাই লড়াইয়ের জন্য তৈরি তো! হ্যালো ডব্লিউ বি, বাই বাই তৃণমূল। ওদের হটাতে হবে। জোট বাঁধুন, তৈরি হোন। ভাগ হবেন না। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র, তফসিলি জাতি-উপজাতি ভাগ হবেন না।” এভাবেই রবিবার ন্যাজাটের সভা থেকে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার ডাক দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সন্দেশখালির কানমারির ভারত সেবাশ্রম সংঘের মাঠে সেখানকার হিন্দুদের অত্বিত্ব রক্ষায় ফের একবার একজোট হওয়ার ডাক দেন তিনি। একই সঙ্গে দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজ্যের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা না গেলে হিন্দুদের ফের উদ্বাস্তু হতে হবে।
হিন্দু ভোট এক করতে শুভেন্দু আরও বলেন, “রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবা সঙ্ঘ, ইসকন, আর্য সমাজ, লোকনাথ ব্রহ্মচারী, রামগোপাল ঠাকুর, বালক ব্রহ্মচারী মহারাজ…ভাগ হবেন না। সব মঠ আঁকড়ে থাকুন। কিন্তু ফাইনালে হাতে রাখুন গীতা। ধর্ম রক্ষতি রক্ষিতঃ। জাগো হিন্দু। আমরা কথা দিতে পারি। উত্তরপ্রদেশ-অসম দেখেছেন, আমাদের আনুন, আরও ভাল কিছু দেখবেন।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারিদিক।
বাংলায় হিন্দু ভোট বিজেপির ভোট বাক্সে এককাট্টা করার আহ্বান জানিয়ে এদিন পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলা এবং অপারেশন সিঁদূর-এর প্রসঙ্গও টেনে এনে শুভেন্দু বলেন, “মাথার সিঁদুর দেখে মেরে দিল। কলমা পড়তে জানে না বলে মেরে দিল। হাতের তাগা দেখে মেরে দিয়েছে। বিতান অধিকারীর স্ত্রী জানিয়েছেন, বস্ত্র সরিয়ে তার পর মেরেছে। বদলা নেবেন না? ভারতীয় সেনা অপারেশন সিঁদুর করে এসেছে। ১০০ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে মোদিজি সেনাকে দিয়ে মেরেছেন। ঘুসকে মারা হ্যায়। মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়। প্রতিশোধ নেবেন না! মহম্মদ সেলিম সাহেব সেক্যুলার নেতা বলেছিলেন হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস বামপন্থী। ধুলিয়ানে গেলে পরিবার বলল, বাম বলে মারেনি, হিন্দু বলে মেরেছে। গলায় তুলসি ছিল। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হবেন না!”
তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়ে বলেন, “আপনাদের কাছে সুযোগ আছে। এই বাংলায় সবাই যোগ্য, একজনই অযোগ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘২৬-এ পাল্টে দিন। পাল্টাবেন তো! সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ আমাদের দেবেন তো! কুলতলি, গোসাবা, ক্যানিং আছে, সুন্দরবন জাগো। সব রোহিঙ্গা, রোহিঙ্গা মুসলমান ঢুকছে, দখল করছে। আপনি সোনারহাট, বসিরহাট পালাচ্ছেন। ঐক্যবদ্ধ হোন। নিশ্চিন্ত থাকুন শাহজাহানের দাদাগিরি অতীত করেছি, অতীতই থাকবে। কাদের মোল্লা যে গর্তে তুমি থাকো না কেন, তোমাকে টেকে বার করে আইনের সাজা দেব। আমার ছাল চামড়া তুলবে বলেছিল শাহজাহান। তিন বার সরবেড়িয়ায় ওর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মিষ্টি খেয়েছি, খাইয়েছি। কানমারি হত্যার বদলা নেব নেব নেব। শুধু ভাগ হবেন না আমার হিন্দুরা। হাত জোড় করে বলছি।”
এরপরেই আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় এলে মাসে মাসে মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলে আগেও রাজ্য বিজেপি-র তরফে ঘোষণা করা হয়। এদিন সেই ঘোষণার কথা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “মায়েরা ৫০০-১০০০ টাকার কাছে শাঁখা-পলা-সিঁদুর বিসর্জন দেবেন না। যেদিন বিজেপি এই রাজ্যে আসবে, তার পরের ১ তারিখেই ৩০০০ টাকা ঢোকাব। কথা দিয়ে গেলাম। ১ লাখ ২০-তে ঘর হয়! আমাদের আনুন ৩ লাখের ঘর হবে। স্মার্ট মিটার লাগাতে দেবেন না। সরকার টাকা তুলতে চাইছে মধ্যবিত্তের থেকে। জোট বাঁধুন, তৈরি হোন, আমাদের জিততে হবে। শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ করতে হবে আমাদের। হিন্দু যোদ্ধা, রাষ্ট্রবাদীরা প্রস্তুত হোন। বাটেঙ্গে তো কাটেঙ্গে, এক রহেঙ্গে তো সেফ রহেঙ্গে। হাতজোড় করে বলছি, হিন্দুরা ভাগ হবেন না। ‘৫১-এ আমরা হিন্দুরা ৮৫ শতাংশ ছিলাম, আজ ৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশে আমরা ২৩ শতাংশ ছিলাম ‘৭১ সালে, আজ ৭ শতাংশ। ৫০ শতাংশের নীচে নেমে গেলে সংবিধান চলবে না, নিরাপদ সর্দারের সেক্যুলারিজম চলবে না। সেদিন চলবে শরিয়ৎ আইন।”