শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
ডায়মন্ড হারবার মডেল – তোলাবাজ পুলিশের ইলিশ চুরি! নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই সাংসদ এবং রাজ্য পুলিশকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
ডায়মন্ড হারবারে মাছ ব্যবসায়ীদের থেকে তোলা তুলছে পুলিশ! ভিডিও শেয়ার করে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশকে ঘিরে মাছ ব্যবসায়ীদের ভিডিও শেয়ার করে শুভেন্দু লিখেছেন, ডায়মন্ড হারবার মডেল – তোলাবাজ পুলিশের ইলিশ চুরি! মমতা পুলিশের তোলাবাজি দিনকে দিন দুর্নীতির নতুন শৃঙ্গ উত্তরণ করছে। সরকারি বেতনে অসন্তুষ্ট এই আদ্যোপান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত তথাকথিত আইন রক্ষক-এর দল নিজেরাই চৌর্যবৃত্তির পথ অবলম্বন করছে! কীভাবে এই চুরির সাম্রাজ্য বিস্তার করা যায় সেই পথ দেখায় ডাকাত সম্রাটের ডায়মন্ড হারবার মডেল।
গত কিছুদিন যাবৎ ডায়মন্ড হারবারে মাছের আড়ৎ থেকে ইলিশ মাছ কিনতে যাওয়া ছোটো ছোটো মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গাড়ি প্রতি চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা তোলা তুলেছিল মমতা পুলিশ। টাকা দিতে না পারলেই ছোটো ইলিশ সরবরাহ করার অজুহাতে মাছ ভর্তি গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।
মগরা হাট থানার এক আধিকারিক সৈকত রায় তেমনই একটি ইলিশ মাছ ভর্তি গাড়ি ধরেছিলেন। মাছ ব্যবসায়ীরা তাঁর চাহিদা অনুযায়ী তোলা দিতে পারেননি। তাঁরা দাবি করেন যে, তাঁরা ছোটো ইলিশ কেনেননি। কিন্তু পুলিশ আধিকারিক সৈকত রায় সে কথায় কর্ণপাত না করে মাছ ভর্তি গাড়িটি আটক করেন। সারাটা দিন কেটে যাওয়ার পর যখন তিনি দেখেন যে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা পাওয়া যাবে না তখন বিকেলের দিকে তিনি নিজেই ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্র বাজার মাছের আড়তে সেই আটক করা গাড়ির মাছ বিক্রি করতে যান এবং তখনই মাছ ব্যবসায়ীরা তাকে সেখানেই হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং তুমুল বিক্ষোভ দেখান। মাছ ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ যে দুই (সিনটেক্স) পেটি ভর্তি ইলিশ মাছ গাড়ি থেকে পুলিশ ইতিমধ্যেই চুরি করে সরিয়ে ফেলেছে!
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গোটা ঘটনা পরম্পরা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী নিজের পোস্টে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আরও সমালোচনার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এবার তোলাবাজির অর্থ দিতে সক্ষম না হলে গাড়িতে থাকা মাল চুরি করে বিক্রি করে দিচ্ছে। এটাই ডায়মন্ডহারবার মডেল। এই সরকার টাকে তাড়াতেই হবে। নচেৎ বাংলার জনগণকে আরও কি কি যে দেখতে হবে, তা ঈশ্বরই জানেন।
অন্যদিকে, বালি পাচার মামলায় আজ সোমবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক জায়গায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। কলকাতা, গোপীবল্লভপুর-সহ রাজ্যের ২২টি জায়গায় ইডি একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে বিমা সংস্থার কলকাতার কয়েকটি অফিসেও। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইডির এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, যথোপযুক্ত ব্যবস্থা। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নদীর বালি তোলার রাজস্ব বাবদ সরকারের কাছে কুড়ি টাকা গেলে বাকি ৮০ টাকা রাজস্ব পুলিশের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে ভাইপোর কাছে।
সেই সাথে তিনি লালগড়ের আইসি সৌরভ রায়ের বিরুদ্ধে একটা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, সৌরভ রায় ডুপ্লিকেট চালান দিয়ে বালি পাচারের একটা চক্র চালাচ্ছে রাজ্য জুড়ে। এই সৌরভ রায়ের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে ভাইপো যুক্ত। এখন বর্ষাকালে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীর বাঁধ পর্যন্ত কেটে পর্যন্ত বিক্রি করে দিচ্ছে। আর এই পুরো বালির সিন্ডিকেটে যুক্ত আউশগ্রামের লালন, পাণ্ডবেশ্বরের গৌতম ঘোষ, সিউড়ির জাকির, সঞ্জীব পাটোয়ালিরা। তিনি এটাকে বড় স্ক্যাম বলে অবিহিত করেছেন।
শুভেন্দুর কথায়, অ্যাকচুয়্যালি এটা ডায়মন্ড হারবারের মডেল। তোলা তুলতে হবে। যা পাওয়া যায়। মানে পোড়া বিড়ি পেলেও এরা ছাড়বে না। এদের এইরকমই অবস্থা হয়েছে। ভাইপো মডেল। তিনি বলেন, নদীর বালি তোলার রাজস্ব বাবদ সরকারের কাছে কুড়ি টাকা গেলে বাকি ৮০ টাকা রাজস্ব পুলিশের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে ভাইপোর কাছে। পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপাররা এই সৌরভ রায়ের চক্রে সরাসরি যুক্ত। তিনি বলেন, গোপীবল্লভপুর, জামপুর, বিনপুর, কাসাই, সুবর্ণরেখা ছাড়াও বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থেকে শুরু করে সোনামুখী পর্যন্ত ভয়ংকর অবস্থা। পশ্চিম বর্ধমানেও তাই, বীরভূমেও তাই। সব জায়গাতে নদীর কোন অস্তিত্ব নেই। সব টাকা ভাইপোর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এবং পুলিশ সুপাররা টাকা তোলার দায়িত্বে আছে। থানার আইসিরা এখন সব কাজ ছেড়ে এই বালি পাচারের কাজ করছে।
তিনি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কাছে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই তদন্ত আরো গতি পাওয়া উচিত। প্রচুর তথ্য জনগণের কাছে আছে। প্রচুর ডুপ্লিকেট চালান আছে। পুলিশ অফিসারদের দামি দামি গাড়ি ভেট দিয়েছে, তার ছবিও আছে। এদের বিরুদ্ধে আরো কঠিন ব্যবস্থা তদন্তকারী সংস্থা নেবে। প্রয়োজনীয় তথ্য জনগণ পাঠাবে, এটাই আমি আশা করব। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, সিবিআই কয়লা পাচার বন্ধ করে দেওয়ার পর রানীগঞ্জে আবার চেষ্টা করা হচ্ছে। লালগড়ের আইসি সৌরভ রায়ের জন্য পুরো একটা গ্রামকে জেল খাটিয়েছে।