ব্রেকিং
Latest Posts
Bidyadharpur : লেভেল ক্রসিং নেই, তবুও রেললাইন পারে কড়াকড়ি! বিদ্যাধরপুর স্টেশনে আরপিএফের বাধায় চরম ভোগান্তি যাত্রীদেরফের সুপার সাব মেরিনোর বাজিমাত! ৪০ বছরের বেলজিয়াম-অভিশাপ ভেঙে সেমিফাইনালে স্পেন, সামনে এমবাপের ফ্রান্সAsha ICDS Salary : আশা কর্মী ও আইসিডিএসের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহায়িকাদের জন্য বড় সুখবর, বেতন বৃদ্ধির সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারিAbhishek Highcourt : কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করবে হাইকোর্ট, বিচারপতির ধমকে সিআইডির কাছে হাজিরা দিতে রাজি অভিষেকSuvendu Adhikari : ‘পদ্মফুল ফোটান, দু’হাত ভরে দেব’! রেজিনগর থেকে উপনির্বাচনের দামামা বাজালেন শুভেন্দু, নন্দীগ্রাম নিয়েও আত্মবিশ্বাসী হুঙ্কার
  • Home /
  • ভ্রমন /
  • Chandrabhaga Beach near Kolkata : তাজমহল ভুলে যাবেন! কলকাতার কাছে চন্দ্রভাগা সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয়ের জাদু—উইকএন্ড ট্রিপের সেরা ঠিকানা

Chandrabhaga Beach near Kolkata : তাজমহল ভুলে যাবেন! কলকাতার কাছে চন্দ্রভাগা সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয়ের জাদু—উইকএন্ড ট্রিপের সেরা ঠিকানা

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন। বাঙালির কাছে সমুদ্র মানেই পুরী। কিন্তু ভিড়ভাট্টা, হোটেলের সারি আর চিরচেনা কোলাহলের বাইরে যদি নীল দিগন্তের নিচে একটু শান্তি খুঁজতে চান, তবে আপনাকে ঘুরতেই হবে Chandrabhaga Beach-এ। কলকাতা থেকে সপ্তাহান্তের ছুটিতে পৌঁছে যাওয়ার মতো দূরত্ব, অথচ....

Chandrabhaga Beach near Kolkata : তাজমহল ভুলে যাবেন! কলকাতার কাছে চন্দ্রভাগা সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয়ের জাদু—উইকএন্ড ট্রিপের সেরা ঠিকানা

  • Home /
  • ভ্রমন /
  • Chandrabhaga Beach near Kolkata : তাজমহল ভুলে যাবেন! কলকাতার কাছে চন্দ্রভাগা সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয়ের জাদু—উইকএন্ড ট্রিপের সেরা ঠিকানা

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন। বাঙালির কাছে সমুদ্র মানেই পুরী। কিন্তু ভিড়ভাট্টা, হোটেলের সারি আর চিরচেনা কোলাহলের....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।

বাঙালির কাছে সমুদ্র মানেই পুরী। কিন্তু ভিড়ভাট্টা, হোটেলের সারি আর চিরচেনা কোলাহলের বাইরে যদি নীল দিগন্তের নিচে একটু শান্তি খুঁজতে চান, তবে আপনাকে ঘুরতেই হবে Chandrabhaga Beach-এ। কলকাতা থেকে সপ্তাহান্তের ছুটিতে পৌঁছে যাওয়ার মতো দূরত্ব, অথচ সৌন্দর্যে একেবারে অনন্য।

বিশ্ববিখ্যাত Konark Sun Temple থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে এই সৈকত। অনেক পর্যটকই বলেন—এখানকার সূর্যোদয় নাকি তাজমহলের ভোরের রূপকেও টেক্কা দেয়! অতিশয়োক্তি মনে হলেও, একবার নিজের চোখে দেখলে বুঝবেন কথাটা অমূলক নয়।

ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া
চন্দ্রভাগা কেবল একটি সৈকত নয়, এটি এক ঐতিহ্যের অংশ। পুরাণ মতে, শ্রীকৃষ্ণের পুত্র শাম্ব এখানে সূর্যদেবের উপাসনা করে কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। তাই আজও মাঘ সপ্তমীর দিন হাজার হাজার ভক্ত এখানে পুণ্যস্নান করতে আসেন। একসময় এখানে চন্দ্রভাগা নদী বইত—আজ তা বালির নিচে বিলীন, কিন্তু তার স্মৃতি এখনও জড়িয়ে আছে এই তটরেখার সঙ্গে।

রূপালি বালুচরে নীল ভোর
পুরীর উত্তাল ঢেউয়ের বিপরীতে চন্দ্রভাগা অনেকটাই শান্ত। বিস্তীর্ণ রূপালি বালুচর, পরিষ্কার পরিবেশ এবং স্বচ্ছ জল—এই সৈকত ভারতের ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ স্বীকৃতি পেয়েছে, যা এর পরিচ্ছন্নতার আন্তর্জাতিক মানকে প্রমাণ করে।
ভোর পাঁচটা নাগাদ যখন আকাশ ধীরে ধীরে কমলা আভা নেয়, তখন দিগন্তরেখা ভেদ করে সূর্য ওঠার দৃশ্য একেবারেই অবর্ণনীয়। ঢেউয়ের ফেনা, হালকা ঠান্ডা হাওয়া আর দূরে জেগে ওঠা সূর্যের রঙিন আলো—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা যেন স্থির হয়ে থাকে। ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি স্বপ্নের লোকেশন।
বিকেলের পড়ন্ত রোদেও সৈকতের রূপ কম যায় না। ঝাউবনের ছায়ায় বসে ঢেউ দেখা—মনকে অদ্ভুত শান্তি দেয়।

কী করবেন চন্দ্রভাগায়?
১. কোণার্ক ইকো রিট্রিট:
শীতকালে ওড়িশা পর্যটন দপ্তর বিলাসবহুল তাঁবুর ব্যবস্থা করে। সমুদ্রের ধারে গ্ল্যাম্পিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় খাবার—সব মিলিয়ে অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
২. লাইটহাউস ভিউ:
সৈকতের কাছেই একটি পুরনো লাইটহাউস রয়েছে। অনুমতি নিয়ে ওপরে উঠলে পুরো উপকূলরেখার এক প্যানোরামিক দৃশ্য চোখে পড়ে।
৩. সামুদ্রিক খাবার:
ছোট দোকানগুলিতে টাটকা মাছ ভাজা, চিংড়ি, কাঁকড়া—স্বাদে ও তাজাত্বে মন ভরিয়ে দেয়। দামও তুলনামূলক কম।

কোথায় থাকবেন? খরচ কত?
চন্দ্রভাগায় সীমিত থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, তাই অধিকাংশ পর্যটক পুরী বা কোণার্কে থাকেন।
কোণার্কে হোটেল (প্রতি রাত, দুই জন):
বাজেট হোটেল: ₹১,২০০ – ₹২,০০০
মাঝারি মানের হোটেল: ₹২,৫০০ – ₹৪,০০০
ইকো রিট্রিট টেন্ট (সিজনাল): ₹৬,০০০ – ₹১২,০০০ (প্যাকেজসহ)

পুরীতে হোটেল:
বাজেট: ₹১,০০০ – ₹১,৮০০
সমুদ্রভিউ হোটেল: ₹৩,০০০ – ₹৬,০০০
চন্দ্রভাগা থেকে পুরীর দূরত্ব প্রায় ৩০–৩৫ কিলোমিটার।
কীভাবে যাবেন? যাতায়াত খরচ
কলকাতা থেকে ট্রেনে:
হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ভুবনেশ্বর বা পুরী পর্যন্ত ট্রেন।
স্লিপার ভাড়া: ₹৪০০ – ₹৬০০
৩এসি: ₹১,০০০ – ₹১,৫০০
ভুবনেশ্বর থেকে চন্দ্রভাগা প্রায় ৬৫ কিমি, পুরী থেকে ৩০–৩৫ কিমি।
সড়কপথে:
পুরী থেকে প্রাইভেট গাড়ি: ₹১,৫০০ – ₹২,৫০০
অটো/শেয়ার গাড়ি: ₹১০০ – ₹২০০ প্রতি ব্যক্তি
মেরিন ড্রাইভ রোড ধরে যাত্রা নিজেই এক অভিজ্ঞতা—একদিকে ঝাউবন, অন্যদিকে সমুদ্রের নীল বিস্তার।

সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ—সবচেয়ে আরামদায়ক সময়। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে গেলে কোণার্ক নৃত্য উৎসব উপভোগ করতে পারেন। গ্রীষ্মে গরম বেশি, বর্ষায় সমুদ্র উত্তাল হতে পারে।

কেন যাবেন?
যদি আপনি এমন একটি সৈকত চান যেখানে সূর্যোদয় আপনার মনকে নাড়িয়ে দেবে, যেখানে ঢেউয়ের শব্দে মনের ক্লান্তি ধুয়ে যাবে, তবে চন্দ্রভাগা আপনার জন্য। কলকাতার কাছেই এমন এক সাগরপাড়, যা এখনও অতিরিক্ত বাণিজ্যিক হয়ে ওঠেনি—এটাই তার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
উইকএন্ডে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। হয়তো ভোরের সেই প্রথম আলোয় দাঁড়িয়ে আপনিও বলবেন—এই দৃশ্য সত্যিই তাজমহলের চেয়েও কম নয়।

আজকের খবর