কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
নন্দীগ্রামে ফের সবুজ আবির। শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা এলাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় সমবায় সমিতির নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। আমদাবাদ সমবায়ে জয়ের পর এবার রানিপুর সমবায় সমিতিতেও বিজেপিকে পরাজিত করে রাজনৈতিক বার্তা দিল রাজ্যের শাসক দল। পূর্ব মেদিনীপুরের এই ফলাফলকে নিছক সমবায় ভোটের সাফল্য হিসেবে দেখতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের মতে, এটি অনেকটাই আসন্ন বিধানসভা ভোটের ইঙ্গিতবাহী।
রানিপুর সমবায় সমিতিতে মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে আগেই পাঁচটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিল তৃণমূল। বাকি ৪০টি আসনে সরাসরি লড়াই হয় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। শেষ পর্যন্ত ফলাফলে দেখা যায়, তৃণমূল জেতে ২৭টি আসনে, আর বিজেপি পায় ১৮টি। অর্থাৎ, শুভেন্দু অধিকারীর নিজের বিধানসভা এলাকাতেই আবার পিছিয়ে পড়ল পদ্ম শিবির।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই জয়ের কৃতিত্ব দিচ্ছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিশেষ করে তাঁর উদ্যোগে নন্দীগ্রামে চালু হওয়া ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির কথা বারবার উঠে আসছে। তৃণমূলের দাবি, এই স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্পে মানুষের অংশগ্রহণ ও সাড়া প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। আর সেই ইতিবাচক প্রভাবই ভোটের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়ের কথায়, “আমদাবাদ-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে থাকা সত্ত্বেও সেখানে মানুষ তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। এমনকি লোকসভা ভোটে যেখানে বিজেপি এগিয়ে ছিল, সেখানকার মানুষও এবার আমাদের প্রার্থীদের জয়ী করেছেন।” তাঁর দাবি, এই নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের উত্তাপকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।

তবে ভোট ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের অভিযোগও তুলেছে তৃণমূল। দলের দাবি, আমদাবাদ সমবায় হাতছাড়া হওয়ার পর রানিপুরে মরিয়া হয়ে ওঠে বিজেপি। শনিবার রাত থেকেই এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়, তৃণমূলের একাধিক কর্মী আহত হন বলেও অভিযোগ। যদিও সমস্ত চাপ ও চেষ্টা সত্ত্বেও ভোটাররা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলকেই সমর্থন করেছেন।
অন্যদিকে, ভোটের দিন শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন পার্শ্ববর্তী হরিপুর এলাকায়। তৃণমূলের অভিযোগ, সেখান থেকেই তিনি ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দলের বক্তব্য, একটি সমবায় ভোটে নাক গলানোর মতো সময় বিরোধী দলনেতার নেই।

রানিপুরে পরাজয় নিয়ে বিজেপির গলায় যদিও বিশেষ আক্ষেপ নেই। বিজেপি নেতা প্রলয় পাল দাবি করেছেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ১৮টি আসনে জয় পাওয়াই তাঁদের কাছে ‘নৈতিক জয়’। তবে রাজনীতির ময়দানে বাস্তব ফলাফল যে তৃণমূলের পক্ষেই কথা বলছে, তা মানছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও।
নন্দীগ্রামের মাটিতে এই জয় যে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াল, তা বলাই বাহুল্য।