সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘গঙ্গাসাগরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি সেতুর। সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে। তৈরি হতে চলেছে সেতু। মুখে বলে নয়, কাজে করে দেখাই।’ গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে এমন দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘জেলা জুড়ে অনেক রাস্তা ও সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। শিলান্যাস হয়ে গিয়েছে। জঙ্গল, সাপ, বাঘ সবকিছুর মধ্যে দিয়ে গঙ্গাসাগরের মানুষ জীবন যাপন করতে হয়। এই সেতু হওয়ার কারণে সুবিধা হবে গঙ্গাসাগরের মানুষের। ৫ কিমি ৪ লেনের অত্যাধুনিক সেতু তৈরি হবে।’
বিরোধীদের নানা ধরনের কুৎসার জবাব দিয়ে মমতা বলেন, ‘তিনি বলেছেন, ২০১১ সালের পরে পরিকাঠামো ভাল করা হয়েছে। মন্ত্রী, পুলিশ সকলেই গঙ্গাসগর মেলা শুরুর আগেই চলে আসে। নবান্ন থেকে দায়িত্ব নেওয়া হয়। এবারও সেটা করা হয়েছে। মিথ্যেবাদীরা অত্যাচার অনাচার ভালবাসে। সেগুলো নিয়ে তাঁরা ভালো থাকুক। ২৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। বাংলার জন্য কিছু করেনি। জন্মের পর থেকে মিথ্যে কথা বলছে। ধর্ম নিয়ে কথা বলে তাঁরা। কিন্তু তাঁদের ধর্ম নেই। ধর্মের অর্থ ধারণ করা। তার দিকে নেই। শুধু মিথ্যাচার, অত্যাচার করাই কাজ।’
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেউ কেউ আমাদের উন্নয়নের পাঁচালীকে ব্যঙ্গ করে ব্যাঙমা পাঁচালী বলছে। আমি কথা বলব না, কথা বলবে আমার প্রকল্প।’ তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের একের পর এক উন্নয়নমূলক প্রকল্পই সব সমালোচনার জবাব দেবে। তিনি বলেন, মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।
একই সঙ্গে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর ইস্যুতে ফের একবার কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি এই ইস্যুতে আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘৮৫-৯০ বছরের বয়স্ক মানুষ, যাঁরা নাকে অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে আছেন, তাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এমনকি গর্ভবতী মহিলাদেরও হাজিরা দিতে বলা হচ্ছে। এই অবস্থাতেও কি তাঁদের প্রমাণ করতে হবে তাঁরা এ দেশের নাগরিক কিনা?’ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, এই ধরনের পদক্ষেপ কি মানবিক? এদিন তিনি আরও দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে গত দু’মাসে প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এতগুলো মানুষ মারা গেল, তাতে কি কারও হৃদয় কাঁদে না? যারা মানুষের নাম কাটছে, তাদের নিজেদের বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট আছে?’ তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গকে বিনাশ করার ক্ষমতা কারও নেই।’

‘হোয়াটস অ্যাপে’র মাধ্যমেই কমিশন চলছে বলেও তোপ দেগেছেন। আজ সোমবার গঙ্গাসাগরে দাঁড়িয়ে এই ইস্যুতে ফের একবার সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একযোগে কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিস কুমার’ বলেও কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হোয়াটস অ্যাপে কমিশন চলছে। হোয়াটস অ্যাপে কিনেছে কিনা কে জানে? মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আর তা যদি হয় তাহলে আপনারও ভ্যানিস হয়ে যাবেন।’
নির্বাচন কমিশনকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করলে বা বাসস্থানের ঠিকানা বদলালে অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এটা কি অন্যায় নয়?’ এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করেন তিনি। সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসআইআর ইস্যুতে আইনি লড়াই আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল কোর্ট খুলবে, আমরা আদালতে যাব। প্রয়োজনে আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হব। প্রয়োজন পড়লে আমিও সুপ্রিম কোর্টে মানুষের হয়ে প্লিড করব।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থানেই রয়েছে।