সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
মাঝে আর টেনেটুনে মাস তিনেক। তারপরেই বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। তাই দীর্ঘ টালবাহানার পরে অবশেষে নয়া রাজ্য কমিটি গঠন করে ঘোষণা করল বঙ্গ বিজেপি। শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে আদি-নব্য ভারসাম্যের চেষ্টা স্পষ্ট।
কমিটিতে পুরনোদের মধ্যে তনুজা চক্রবর্তীকেও রাজ্য সহ-সভাপতির পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ঘোষিত তালিকায় মোট সাতজন মহিলা সদস্য ঠাঁই পেয়েছেন, যা কমিটির ২০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে রাজ্য বিজেপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে এবার দলের বড় দায়িত্বে আনা হয়েছে।
সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডার নির্দেশে গঠিত নয়া কমিটিতে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক পদে তিনটি পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সৌমিত্র খাঁ, বাপি গোস্বামী এবং শশী অগ্নিহোত্রী। এর আগে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, দীপক বর্মন, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়।
নয়া সাংগঠনিক রদবদলে অগ্নিমিত্রা পাল, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও দীপক বর্মনকে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। বাকিরা রয়ে গিয়েছেন পুরনো দায়িত্বেই। ভোটের আগে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিজেপির রাজ্য সোশ্যাল মিডিয়া টিমের ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সপ্তর্ষি চৌধুরীকে।

৩৫ জনের এই তালিকায় ঠাঁই পাননি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এমনকি শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারের নামও নেই এই তালিকায়। তবে চমক দিয়ে উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়কে রাজ্য সহ-সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৯ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর রাজ্য সহ সভাপতি পদ পাওয়া ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংকে এবারেও ৩৫ জনের কমিটিতে রাখা হল না। কমিটিতে নেই রীতিশ তিওয়ারি বা সায়ন্তন বসুর নাম।
Suvendu letter to CEC : মমতার এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবির পাল্টা জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি শুভেন্দুর
একই সঙ্গে দলের বিভিন্ন মোর্চার দায়িত্বপ্রাপ্তদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। বিজেপির যুব মোর্চার দায়িত্বে থাকবেন ইন্দ্রনীল খাঁ। মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে আনা হয়েছে ফাল্গুনী পাত্রকে। কিষান মোর্চার দায়িত্বে রাজীব ভৌমিক, ওবিসি মোর্চার দায়িত্বে শুভেন্দু সরকার, এসসি মোর্চার দায়িত্বে সুজিত বিশ্বাস এবং এসটি মোর্চার দায়িত্বে খগেন মুর্মুকে নিয়োগ করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আলী হোসেনকে। বিধানসভা ভোটের আগে এই সাংগঠনিক রদবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সূত্রের খবর, দলের এক নীতি এক পদ মেনে এবারে রাজ্য কমিটিতে কোনও বিধায়ককে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই মোতাবেক পূর্বতন রাজ্য কমিটিতে থাকা ছ’জন বিধায়কের মধ্যে পাঁচ জন বিধায়ককে এবারে রাখা হয়নি। এরা হলেন- গোপাল চন্দ্র সাহা, গৌরী শঙ্কর ঘোষ, অশোক দিন্দা, লক্ষ্মণ ঘোড়ুই ও বিমান ঘোষ। তবে ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে শঙ্কর ঘোষের ক্ষেত্রে। বিধায়ক পদে থাকার পাশাপাশি নব গঠিত রাজ্য কমিটিতেও শঙ্করবাবুকে রাখা হয়েছে। একইভাবে অগ্নিমিত্রা পালকেও রাখা হয়েছে কমিটিতে।