সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘ক্ষমতা থাকলে অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদী ১০ কোটি বাঙালিকে জেলে ভরো। কত বড় বাপের ব্যাটা, দেখি।’ এভাবেই মালদহের জনসভা থেকে বিজেপির উদ্দেশ্যে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরাতন মালদহের জলঙ্গাতে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে সভা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মঞ্চে হাজির বাংলাদেশে পুশব্যাক হওয়া কালিয়াচকের জালালপুরের পরিযায়ী শ্রমিক আমির শেখ, দিল্লিতে হেনস্থা হওয়া চাঁচলের বাসিন্দা সাজনুর বিবি-সহ একাধিক পরিযায়ী শ্রমিক। ছিলেন ভিনরাজ্যে হেনস্থা হওয়া মুর্শিদাবাদের অন্যান্য শ্রমিকরাও। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক। তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন তিনি। এরপরেই পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারেন অভিষেক। সভাস্থলের পাশেই খাবারের জায়গা বানানো হয়েছিল। ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার ঘটনায় পুরাতন মালদহের সভা থেকে সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে ধারাবাহিক অত্যাচার, অবহেলা, বঞ্চনার কথা শুনেছি, দেখেছি। রাজ্য সরকার পোর্টাল খুলে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। মঞ্চের মানুষগুলি নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। বিজেপির সাংসদ খগেন মুর্মুর এলাকার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।’ সাংসদ আক্রান্তদের কোনও খোঁজ নেননি বলে খগেনকে আক্রমণ করেন অভিষেক।
মালদার জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, ‘২০২৯-এ এদের খেলা শেষ।’
বিজেপিকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘খগেন মুর্মুকে জিজ্ঞেস করুন, তাঁরা কোন ভাষায় কথা বলেন? কেন তাঁদের জেলে পাঠানো হবে না?’
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিষেকের দাবি, ‘এসআইআর-এর মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জেরে আতঙ্কে ৬৫ জন আত্মঘাতী হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার আছে, ভয় কীসের? বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহ থাকলে কী হবে? ভয় পাচ্ছেন কেন?’ বিজেপির রাজনীতিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘যে ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল, সে আজ বাবরি মসজিদ বানাচ্ছে, মাঝখান থেকে টাকা তুলছে, মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। টাকা দেবেন না।’ ধর্মীয় রাজনীতির বিরোধিতা করে তিনি গীতার শ্লোক উদ্ধৃত করে বলেন, ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আমি সব প্রাণীর মধ্যেই বিরাজমান।’ এরপরই তাঁর অভিযোগ, ‘গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে মুসলিম প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করা হয়েছে। এই বাংলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পুণ্যভূমি।’

বিহারের উদাহরণ টেনে অভিষেক বলেন, ‘বিহারে মানুষকে ভাগ করে বিজেপি জিতে গেছে। বাংলায় সেটা হতে দেব না। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবারে ভোট টু ইলেক্ট নয়, ভোট টু পানিশড। আপনাদের ব্যবস্থা আমরা এখানেই করব, কাউকে কোথাও যেতে হবে না। এবারে আর খেলা হবে না, পদ্মফুল উপড়ে ফেলা হবে। আর তিন বছর। ২০২৯-এ এদের গল্প শেষ।’