সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির মধ্যেই শনিবার বহরমপুরে রোড শো করেন অভিষেক। রোড শো শেষ করে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বক্তৃতা শুরু করেন। এসআইআর নিয়ে সেখানে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করেন তিনি। বেলডাঙা নিয়ে মুর্শিদাবাদের মানুষকে সতর্কও করেন তিনি। কারও উস্কানিতে পা দিতে বারণ করেন। নিষেধ করেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে।
এদিনের জনসভা থেকে অভিষেক বারে বারে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে। দুজনকেই কার্যত বিজেপির এজেন্ট বলে অভিযোগ করেন তিনি। অধীর চৌধুরীকেও ২০২৪ লোকসভায় হারিয়েছে তৃণমূল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই অধীরের কর্মভূমি বহরমপুরে দাঁড়িয়ে ফের তাঁকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বহরমপুরের রোড শো থেকে শুরুতেই অধীরকে হারানোর জন্য মুর্শিদাবাদবাসীকে, বহরমপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানান অভিষেক। তিনি বলেন, ‘প্রথমেই বহরমপুরবাসীকে ধন্যবাদ। ২০২৪ সালে বিজেপির ডামি প্রার্থীকে এখান থেকে হারানোর জন্য। তাঁকে প্রাক্তন করে দেওয়ার জন্য।’ অধীর যে বিজেপির এজেন্ট সেটা প্রমাণ হিসাবে অভিষেকের যুক্তি, কোথাও কোনও মঞ্চ থেকে কোনওভাবেই বিজেপিকে আক্রমণ করেন না তিনি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলছেন, ‘দু’বেলা সাংবাদিক বৈঠক করে শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি করছেন। আজ গরম লাগলে, বৃষ্টি পড়লে সেটার জন্যও মমতাকে দায়ী করেন।’ আরও একজনকে এদিন কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন অভিষেক। তিনি হুমায়ুন কবীর। অভিষেকের অভিযোগ, ‘মুর্শিদাবাদের ওই নয়া গদ্দার, বিজেপির নতুন এজেন্ট। শীঘ্রই তাঁর আসল স্বরূপ মানুষের সামনে আসবে।’
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির নেপথ্যে বিজেপি এবং তাদের মদতপুষ্ট লোকজনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। বলেন, ‘আজ আমার সভায় আসার আগে বেলডাঙায় অশান্তির খবর পাই। গতকালও হয়েছে। দলের তরফে ফোন করে সভা করার দরকার নেই বলেছিলেন অনেকে। সকাল ১১টা থেকে কথা বলছি অনেকের সঙ্গে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম, এই যে ঘটনাটি ঘটছে, তাতে ইন্ধন দিচ্ছে বিজেপি-র বাবুরা, আর একটা নতুন গদ্দার তৈরি হয়েছে এই মাটিতে, সে। আমি যদি আজ এখানে না আসতাম, তাহলে সেই গদ্দারদের অক্সিজেন দেওয়া হতো। আমি যখন দেখলাম এই ঘটনার পিছনে প্রত্যক্ষ ভাবে তাদের মদত ও ইন্ধন রয়েছে, যারা কোনও দিন মানুষের পাশে থাকেনি। একটা গদ্দার, একটা মিরজাফর, একটা বিজেপির ডামি প্রার্থীকে বিদায় দিয়েছেন আপনারা। আর একটা নতুন গজিয়েছে। সেটাকে গণতান্ত্রিক ভাবে ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্মে ধর্মে বিভাজন ঘটিয়ে মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে যারা লড়িয়ে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে সকলকে। মুর্শিদাবাদে কোনও রকম ভাবে, কোনও বুথে যদি কেউ বিজেপি-র বিভাজনের রাজনীতির বীজ বপন করে বিভাজন তৈরি করে, তাহলে মুর্শিদাবাদ দুর্বল হবে, আর বিজেপি শক্তিশালী হবে।’
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরি খেরেছে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার প্রেক্ষিতেও অভিষেক বলেন, ‘আজ যারা বাবরি মসজিদ নিয়ে রাজনীতি করছে, ২০১৯ সালে বিজেপি-র প্রার্থী ছিল। বিজেপি-র সঙ্গে কার যোগাযোগ? তার প্রকৃত স্বরূপ শীঘ্রই জনসমক্ষে আসবে। অপেক্ষা করুন আসল চেহারা খুব তাড়াতাড়ি জনগণের সামনে আসবে।’

জনতার মুখরিত সখ্যে
বহরমপুরে অভিষেকের রোড শো চলাকালীন আচমকা সামনে অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক ব্যক্তি। তা দেখে তড়িঘড়ি ওই ব্যক্তির সাহায্যের জন্য এগিয়ে গেলেন অভিষেক। দলীয় কর্মীদের দ্রুত জল দেওয়ার কথা যেমন বললেন তেমনই উপসর্গ দেখে ওই ব্যক্তির সুগার ফলের কথাও বললেন। রোড শো’য়ে বক্তব্য থামিয়ে বলেন, ‘ওর সুগার ফল করেছে একটা মিষ্টি দাও, দেখো আমার গাড়িতে থাকবে। নাহলে লজেন্স বা কিছু দাও। তাড়াতাড়ি দাও। ঠিক হয়ে যাবে।’ যদিও কিছু মুহূর্ত পরেই অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ করতে দেখা যায় অভিষেককে। দলীয় কর্মীদের সেই নির্দেশও দেন। মাইক হাতে দেন নির্দেশ। দলীয় কর্মীদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতেও বলেন। এদিকে এই পরিস্থিতিতে ততক্ষণে গোটা এলাকাতেই বেশ খানিকটা উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি বুঝে শেষ পর্যন্ত আশ্বস্তও করতে দেখা যায় অভিষেককে। বলেন, ‘উনি সুস্থ হয়ে যাবেন, চিন্তা করবেন না। অ্যাম্বুলেন্সে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক খুনের অভিযোগ বিগত দু’দিন ধরে তপ্ত হয়ে রয়েছে বেলডাঙা। এদিন রোড শো থেকে সেই বেলডাঙা নিয়েও বার্তা দিতে দেখা যায় অভিষেককে। বারবার সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন। একইসঙ্গে মৃতের পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের তরফে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করার পাশাপাশি মৃতের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার কথাও শোনা যায় অভিষেকের মুখে।