সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“আমায় এবার মুক্তি দিন। আমার বিরুদ্ধে যাবতীয় যাও অভিযোগ উঠেছে তা থেকে বেকসুর খালাস করে দিন আমায়।” কলকাতা হাইকোর্টে এমন দাবি জানিয়ে মামলা দায়ের করল আরজিকর ধর্ষণ এবং হত্যা মামলার অপরাধী সঞ্জয় রাই। চিকিৎসক-পড়ুয়া ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন সাজা নিয়ে হাই কোর্টে আপিল, শুনানি বুধবার। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া সঞ্জয় রায় তার বিরুদ্ধে শিয়ালদহ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আপিল করেছেন।
গত জানুয়ারিতে শিয়ালদহ আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। এরপর, ২০২৩ সালের ১৭ জুন তিনি কলকাতা হাই কোর্টে এই মামলার বিরুদ্ধে আবেদন দাখিল করেন।
আগামী বুধবার, বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। সঞ্জয়ের পক্ষের আইনজীবী সেঁজুতি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার পর থেকেই তাঁরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর কথায়, “যে কোনও অভিযুক্তের, যিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাঁর অধিকার রয়েছে উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার চাওয়ার।” সঞ্জয়ের আইনজীবীদের দাবি, তাঁকে ভুলভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন ‘নির্যাতিত’। তাঁরা মনে করছেন, এই মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা করা হয়েছে, যার ফলে সঞ্জয়কে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁর খালাস চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার বাবা-মা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সিবিআই তাঁদের আর্জিতে আপত্তি জানায়নি। বুধবার এই মামলার শুনানিতে শিয়ালদহ আদালত নির্যাতিতার পরিবারের সেই আবেদন খারিজ তো করলেই, পাশাপাশি চরম ভর্ৎসনা করল সিবিআইকে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নিজের তদন্তদের ওপরই ভরসা নেই।
নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ‘লাস্ট সিন থিওরি’ মেনে তদন্ত হয়নি। তাই ঘটনাস্থল বা ‘প্লেস অফ অকারেন্স’ পরিদর্শন করতে চান তাঁরা। একই সঙ্গে, নিজেদের বিশেষজ্ঞ টিমও সেখানে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও পরে নির্দেশমতো শিয়ালদহ আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। বুধবার নির্যাতিতার পরিবারের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে কোর্ট। পাশাপাশি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে।
শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অরিজিৎ মণ্ডল কার্যত বিস্মিত হয়েছেন সিবিআই-এর ‘নো অবজেকশন’ নিয়ে। তাঁর মন্তব্য, ‘পরিবারের আবেদনপত্র দেখে মনে হয়েছে তাঁদের আইনজীবীরা সমান্তরাল তদন্ত করতে চান। এতেই অবাক হচ্ছি কেন সিবিআই কোনও নো অবজেকশন দিল না। সিবিআইয়ের অবস্থা শোচনীয়।’ এই প্রসঙ্গেই আদালতের প্রশ্ন – তাহলে কি সিবিআই মনে করছে তাঁদের তদন্তই ঠিক হয়নি? তাঁদের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা কি ঠিক কাজ করেনি? এটাই যদি হয় তাহলে এতদিন বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্ত কীভাবে হল? তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এদিন মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।