কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
‘নন্দীগ্রামের মানুষ ১৯৫৬-র সঙ্গে আরও একটা শূন্য লাগিয়ে ২০ হাজার ভোটে হারাবে।’ এভাবেই আরো একবার নন্দীগ্রামে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবিরে সাতদিনে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি মানুষ গিয়েছেন বলে খবর। সকলকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্টও করেন অভিষেক। সেবাশ্রয়ের সাফল্য নিয়ে এক্সে পোস্ট করেন। নন্দীগ্রামের মতো হট-সিটে অভিষেক তথা তৃণমূলের সেবাশ্রয় ক্যাম্প কি ভোট বাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে? উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ভুল জায়গায় হাত দিয়েছেন। নন্দীগ্রামে কিছু হবে না। তৃণমূলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখান থেকে ভোঁতা হয়ে পালিয়েছেন, আর কিছু হওয়ার নেই। আমি তো চাই উনি আবার আসুক। নন্দীগ্রামের মানুষ ১৯৫৬-র সঙ্গে আরও একটা শূন্য লাগিয়ে ২০ হাজার ভোটে হারাবে।’ সেবাশ্রয় চলাকালীন নিজের গড়ে শোভাযাত্রা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নেতৃত্বে রাম মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবসে নন্দীগ্রামে মিছিলের আয়োজন করেন।
অন্যদিকে, ইটাহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানি চলাকালীন নজিরবিহীন হিংসার ঘটনায় সরাসরি রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার হাইস্কুলে দুষ্কৃতী তাণ্ডব এবং এক মহিলা এআরও-র ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সোচ্চার হয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজ্যে কার্যত জঙ্গলরাজ চলছে। শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে দাবি করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু ইটাহারে এসআইআর শুনানি চলাকালীন একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী হামলা চালিয়ে শুধু সম্পত্তি ধ্বংসই করেনি, খোদ মহিলা আধিকারিককেও নির্মমভাবে হেনস্তা করেছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, এই সময় পুলিশ ও প্রশাসন স্রেফ ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এবং দুষ্কৃতীদের অবাধে তাণ্ডব চালাতে সাহায্য করেছে।

তৃণমূল জমানায় রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন দাবি করে বিরোধী দলনেতা লেখেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অপরাধীদের আড়াল করছে, যার ফলে সাধারণ ভোটার এবং সরকারি আধিকারিকদের নিরাপত্তা তলানিতে ঠেকেছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার এই চরম ভেঙে পড়াকে তিনি ‘নির্লজ্জ প্রদর্শনী’ বলে কটাক্ষ করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শুভেন্দু অধিকারী অবিলম্বে ভারতের নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। কর্তব্যে গাফিলতি করা পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই পোস্টের পরেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।