সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, এবং তাদের ঔদ্ধত্য হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করার—আমি এতে স্তম্ভিত, বিস্মিত, বিচলিত। এভাবে জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে জাতীয় নির্বাচন কমিশন যখন দেশ জুড়ে ভোটার দিবস পালন করছে সেই সময় বাংলার মানুষকে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
এসআইআর শুনানির আবহে কমিশনের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত ত্রুটির একাধিক অভিযোগ উঠছে। বিশেষত এনুমারেশন ফর্মে সামান্য ভুলত্রুটির জন্য সোজা শুনানিকেন্দ্রে ডেকে পাঠানোর নোটিস নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। এই নোটিস থেকে বাদ পড়ছেন না নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন থেকে শুরু করে কবি জয় গোস্বামীর মতো সমাজের বিশিষ্ট মানুষজনও। সময় যত গড়াচ্ছে, বিড়ম্বনা বাড়ছে। তার প্রেক্ষিতে আজ মমতা নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লেখেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করছেন এবং সেটাকে একটি করুণ প্রহসনের মতো দেখাচ্ছে। হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, এবং তাদের ঔদ্ধত্য হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করার—আমি এতে স্তম্ভিত, বিস্মিত, বিচলিত।
মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করার পরিবর্তে এবং বিধি-নিয়ম অনুসারে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন এখন লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নামে নতুন-নতুন অজুহাত তৈরি করে চলেছে। মানুষকে অত্যাচার করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে! তাদের প্রভু বিজেপি-র হয়ে তারা বিরোধীদের ধ্বংস করতে চায় এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে আঘাত করতে চায়। এদেরই আবার সাহস হচ্ছে ভোটার দিবস উদযাপন করার!!

ভারতীয় জনতা পার্টির নির্দেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশন অশুভ আঁতাত করে বাংলার মানুষকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে মমতা লিখেছেন, নির্বাচন কমিশনকে বলি: আপনারা মানুষকে অভূতপূর্ব অত্যাচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন, আপনাদের অত্যাচারের ফলেই এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। আপনারা যেভাবে ৮৫, ৯০ , ৯৫ বছরের মানুষকে ডেকে পাঠাচ্ছেন এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষকেও আপনাদের সামনে হাজির হতে বাধ্য করছেন তা করার অধিকার কি আপনাদের আছে? এই বেআইনি চাপ ও নিগ্রহের ফলেই আত্মহত্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এবং আপনারা এটা করছেন আপনাদের রাজনৈতিক প্রভুর নির্দেশে ও স্বার্থে।
এটাকে আপনারা নাগরিকদের জন্য এনআরসি প্রক্রিয়া বানিয়ে তুলেছেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তপশিলি জাতি ও জনজাতির মানুষের জন্য এটা বিশেষ পীড়ার কারণ হয়েছে। নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু আপনাদের পক্ষপাত- দুষ্ট আচরণ এবং একতরফা বেআইনি কান্ডকারখানা, মাইক্রো অবজারভার প্রভৃতিদের দলে দলে পাঠিয়ে সেই নিগ্রহ বৃদ্ধি এবং মানুষকে দলে দলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া পরিণতিতে আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। ভোটার দিবস পালনের কোনও অধিকার আপনাদের আজ নেই।