সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের বাজেট অধিবেশন। চার দিনের এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনেই আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বাজেট পেশ করবে রাজ্য সরকার। বিধানসভা নির্বাচনের আগে হওয়ায় এটি অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট বা Vote on Account হিসেবেই পেশ করা হবে। বাজেটের পাশাপাশি এই অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এসআইআর (SIR) ইস্যু, যা নিয়ে বিধানসভায় বিশেষ আলোচনা ও নিন্দা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অধিবেশন শুরুর আগে সোমবার বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি (BA Committee) এবং সর্বদল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও এই বৈঠকে বিরোধী দল বিজেপির কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠক শেষে অধ্যক্ষ স্পষ্ট করে জানান, বিধানসভার নিয়ম মেনে সরকার পক্ষের আনা প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। তবে একই সঙ্গে বিরোধী বিধায়কদের বক্তব্য রাখার সুযোগও অধিবেশনে থাকবে।
অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুক্রবার এসআইআর সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে একটি নিন্দা প্রস্তাব আনা হবে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই দুটি মোশন জমা পড়েছে—একটি সরকার পক্ষের তরফে এবং অন্যটি আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির পক্ষ থেকে। অধ্যক্ষের কথায়, “এর অর্থ এই নয় যে বিরোধীরা কথা বলতে পারবেন না। সকলের বক্তব্য শোনার সুযোগ থাকবে।”
এসআইআর চালু হওয়ার পর একাধিক মৃত্যুর ঘটনা এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সরকার পক্ষ। সেই কারণেই বিধানসভায় এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন বলে মত সরকারের।
অধিবেশনের দিনভিত্তিক কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন অর্থাৎ আজ মঙ্গলবার সাম্প্রতিককালে প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে অধিবেশনের সূচনা হবে। এরপর দিনের জন্য সভা মুলতুবি করা হবে। পরদিন রাজ্যপালের ভাষণের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে। ওই দিনই দ্বিতীয়ার্ধে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করবেন।

শুক্রবার এসআইআর সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে এবং একই দিনের দ্বিতীয়ার্ধে রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনাও নির্ধারিত রয়েছে। অধিবেশনের শেষ দিনে, অর্থাৎ সোমবার পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) আইনের একটি সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সময়ের স্বল্পতার কারণে এবারের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা হয়নি।
সব মিলিয়ে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সংক্ষিপ্ত বাজেট অধিবেশন রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।